তারেকের ফাঁসির রায় না দেয়ায় আহত পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ২১:০৫
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের ফাঁসি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওই হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা জেলার সহ-সভাপতি মাহবুবা পারভীন। হামলার দিন তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা জেলার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। 
 
বুধবার রায় ঘোষণার পর ইত্তেফাকের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম, এই হামলার মূল নায়ক তারেক রহমানের ফাঁসি হবে। এরপরও যাদের ফাঁসি ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের যেন দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আমি আমার জীবদ্দশায় এই ফাঁসি কার্যকর দেখে যেতে চাই। হামলায় গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে আমার দেহটা ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। আমি আজ পঙ্গু। শরীরে স্প্লিন্টারের যন্ত্রণায় দিনে মাত্র এক ঘণ্টা ঘুমাতে পারি। আর ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা কেউ ঘটাতে সাহস না পায়, এ জন্য সরকারকে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
 
বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলার পর শাড়ী পরিহিত ও এক হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে ফুটপাতে এক নারীর ক্ষত বিক্ষত দেহ পড়ে থাকার যে ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল- সেটিই এই মাহবুবা পারভীনের আহত হওয়ার ছবি।
 
একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ওই দিনের হামলায় আহত কামরাঙীরচরের মাহমুদা মনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে সম্রাট আকবর সবুজ। বুধবার রায় শোনার জন্য বকশী বাজারে মা-ছেলে সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। মায়ের সঙ্গে ডান হাতে এ্যালবো ক্র্যাচে ভর দিয়ে আদালত প্রাঙ্গনে এসেছিলেন সবুজ। 
 
তিনি বলেন, আমাদের শরীরে এখনও বোমার স্প্লিন্টার আছে। আমরা দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছি। এই ন্যাক্কারজনক হামলার মূল হোতা হলেন তারেক জিয়া। অথচ তাকেই ফাঁসির রায় না দিয়ে যাবজ্জীবন রায় দেয়া হলো। তার ফাঁসির রায় হলে আমরা খুশি হতাম। তারপরও যাদের ফাঁসি দেয়া হয়েছে, রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।
 
সবুজের মা মনোয়ারা মাহমুদা বেগম বলেন, মামলায় যেসব আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে- তাদের ফাঁসি দেয়া হোক। তিনি বলেন, আমি সবচেয়ে খুশি হতাম যদি এই হামলার মূল নায়ক তারেক জিয়ার ফাঁসির রায় ঘোষণা হতো। 
 
ইত্তেফাক/এমআই