ফরাসি লিগ ওয়ানের কোনো ম্যাচে গত ৪৫ মৌসুমে কেউই এক ম্যাচে চার গোল করতে পারেনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সেই অধরা কীর্তি ছুঁয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। এর আগে বিশ্বকাপের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স তো আছেই। সেই সুবাদে ফুটবল বিশ্বের আলো এখন এই ফরাসি ফুটবলারের ওপর।
ফ্রান্স জাতীয় দলের বিশ্বকাপ জয়ী কোচ দিদিয়ের দেশ্যমও মনে করেন এই মুহূর্তে এমবাপেই সেরা। তিনি মনে করেন এমবাপেই তাই ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে। চলতি মৌসুমে ১০ গোল করা এমবাপেকে নিয়ে তিনি ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেটা ডেলো স্পোর্টকে বলেন, ‘কিলিয়ান কিছু অসাধারণ কাজ করছে। এতো কম বয়সে সে যা করতে পারে তা স্বাভাবিক না। আপনি তাকে কোনো তালিকায় ফেলতে পারবেন না। ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে আমার চোখে তাই ও সবার চেয়ে এগিয়ে। তার মতো একজন খেলোয়াড় কালেভদ্রে আসে। আমি সৌভাগ্যবান কারণ সে ফরাসি এবং সে আমাদের দলে খেলে। অনেক কিলিয়ান আছে। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপে একজনই। সে দারুণ সব কাজ করছে। এখন পর্যন্ত সে যা অর্জন করেছে তা অসাধারণ।’
সর্বশেষ ২০১৬ সালে ব্যালন ডি’অরের এই পুরস্কারের সেরা তিনে ছিলেন ফ্রান্সের অ্যান্টনিও গ্রিজম্যান। এর আগে ২০১৩ সালে সেরা তিনে ছিলেন ফ্র্যাঙ্ক রিবেরি। থিয়েরি হেনরি অঁরি ২০০৬ ও ২০০৩ সালে যথাক্রমে তৃতীয়-দ্বিতীয় হয়েছিলেন। এরও আগে ২০০০ সালে দ্বিতীয় হয়েছিলেন জিনেদিন জিদান। এর আগে এই জিজুই ১৯৯৮ সালে সর্বশেষ ফরাসি ফুটবলার হিসেবে এ পুরস্কার জিতেছিলেন। এরপর কেটে গেছে ২০টি বছর। কোনো ফরাসি এরপর ব্যালন ডি’অরের সেরা পুরস্কারটা ছুঁয়ে দেখতে পারেনি।
১৯৯৮ সালে জিদানকে এই পুরস্কার এনে দিয়েছিল বিশ্বকাপ জয়। এবার আবারো বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স। তাহলে কি এবার ব্যালন ডি’অরের খরাও কাটবে? কোচ দিদিয়ের দেশ্যম মনে করছেন কাটবে। দেশ্যমের চাওয়া তার দলের তারকা ফরোয়ার্ড অ্যান্টনিও গ্রিজম্যান ও কিলিয়ান এমবাপে কিংবা রাফায়েল ভারানের মধ্যে যে কেউ জিতুক এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটি।
তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র বিশ্বকাপ নয়, গ্রিজম্যান-ভারানে-এমবাপের কারণে তাদের ক্লাবগুলো ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে সাফল্য পেয়েছে। আশা করছি যোগ্য খেলোয়াড়ই ব্যালন ডি’অর জিতবে, আমি মনে করি সেই যোগ্য খেলোয়াড়টি কোনো ফরাসিই হবেন।’ আগামী তিন ডিসেম্বর ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
