‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ যুবক। ২০৩০ সাল নাগাদ এই যুবকরাই দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই যুব সমাজকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়।’
রবিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এসজিডি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম আয়োজিত যুব সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।
সিপিডির সম্মননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে আয়োজিত ‘যুব সম্মেলন ২০১৮: বাংলাদেশ ও এজেন্ডা ২০৩০-তারুণ্যের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদিপ্ত মুখার্জি। আরো বক্তব্য দেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যডভোকেট সুলতানা কামাল, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।
বক্তারা বলেন, দেশে এক-তৃতীয়াংশ ভোটার তরুণ। তাদের মতামত গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যার বোনাস যুগ পার করছে। একে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে হবে। তরুণদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. গওহর রিজভী বলেন, বাংলাদেশে গত দশ বছরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশে আর আগের জায়গায় নেই। তবে আমাদের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এজডিজি অর্জনে তরুণরাই বড় ভূমিকা রাখবে। এমডিজির মতো এসডিজির লক্ষ্যও আমরা পূরণ করতে সক্ষম হবো।
সুদিপ্ত মুখার্জি বলেন, বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের যে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধা রয়েছে তাকে কাজে লাগাতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, আমরা জনসংখ্যার বোনাস যুগে বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড যুগে বাস করছি যা বিশ্বের অনেক দেশেই নেই।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যুব সমাজের মত এত বড় একটি মূল্যবান সম্পদ আমরা কাজে লাগাতে পারছি না, এটি আমাদের একটি বৃহৎ জাতীয় অপচয়। দেশে উচ্চ শিক্ষিত প্রতি তিনজনের একজন বেকার। বাংলাদেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বের হারও বাড়ছে। এর মধ্যে যে যত বেশি শিক্ষিত, তার বেকার হওয়ার শঙ্কাও সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, দেশের এক তৃতীয়াংশ ভোটার যুবক। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির আগে যুব সমাজের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তাদের মতের অগ্রাধিকার দিতে হবে। যুবকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অ্যডভোকেড সুলতানা কামাল বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে সম্মানীত করছে। তিনি বলেন, খেয়াল রাখতে হবে, দেশের দায়িত্ব যেন দুর্বৃত্তদের হাতে চলে না যায়।
ইত্তেফাক/এমআই
