খাদ্য নিরাপত্তার জন্য চাই উপযুক্ত নীতি সমর্থন: আতিউর রহমান

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:২৫
‘খাদ্য অধিকার আইন’প্রণয়নের পক্ষে তরুণদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে ‘হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড’আয়োজিত ‘যুব ছায়া সংসদ’এর ৭ম অধিবেশনে ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে একথা বলেন তিনি।  
 
সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুকের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক ম. হামিদ, দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচাক অধ্যাপক ডা. শাহ হোসেন, খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী এবং হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের কান্ট্রি ডিরেক্টর আতাউর রহমন মিটন।
 
আতিউর রহমান জাতীয় সংসদের আদলে সাড়ে তিনশ তরুণ সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধী দলের নেতা ও খাদ্যমন্ত্রীসহ নির্বাচিত বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যদের উন্নতমানের সংসদীয় বিতর্কের ভূয়শী প্রশংসা করেন। তরুণ সংসদ সদস্যদের বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা, পরমত সহিষ্ণুতা, জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখে বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও সরকারি দলের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি এবং অন্যান্য অতিথিরা মুগ্ধ হন।
 
আতিউর রহমান খাদ্য অধিকার আইনে পাশের যৌক্তিকতা সমর্থন করে বলেন, সাম্প্রতিক দশকে আশপাশের দেশ থেকে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। জাতিসংঘের ‘খাদ্য ও কৃষি সংস্থা’ (ফাও) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১৯৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭। পক্ষান্তরে ভারতের অবস্থান ৫১ এবং চীনের ১২৫। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনো প্রায় দুকোটির মতো মানুষ অতি দরিদ্র এবং ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে।
IMG0
এদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আইনের প্রয়োজন রয়েছে বলে ড. আতিউর অভিমত ব্যক্ত করেন।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমার অংক এ অঞ্চলে সবচেয়ে আশাপ্রদ। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এই গড় প্রত্যাশিত আয়ু ৬৯ বছর। তবে ওজন ও উচ্চতার বিচারে এখনো বাংলাদেশের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষের পুষ্টিমান সন্তোষজনক নয়। তবে চাল ছাড়াও শাক সবজি, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের অভাবনীয় হারে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যের বহুমুখীকরণের ফলে পুষ্টির মান উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
 
তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বেড়েছে। রেমিটেন্স, মোবাইল ব্যাংকিং, কৃষি ঋণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর মতো কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রসারে সাধারণ মানুষের আয় রোজগার করার সক্ষমতা অনেকাংশেই বেড়েছে। সরকারও যান্ত্রিকায়ন ও জলবায়ু সহিষ্ণু নানামাত্রিক কৃষি নীতি গ্রহণ করায় কৃষির উৎপাদনশীলতা গত এক দশকে তিন গুনের মতো বেড়েছে। এখন খেয়াল রাখতে হবে খাদ্যের সুষম ও নিরাপদ প্রাপ্তির দিকে। আমাদের শিশু, গর্ভবতী মা, চর, হাওর ও উপকূলের প্রান্তিক মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যে উপযুক্ত নীতি সমর্থন দেয়া উচিত।
 
ইত্তেফাক/কেআই