আইয়ুব বাচ্চু। বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের কিংবদন্তী। যার গিটার জাদুতে মুগ্ধ পুরো বিশ্ব। সংগীত জগতের জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। শুধু তাই নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও বিনয় তাকে নিয়ে গেছে আরো উচ্চমাত্রায়।
হঠাৎ করে রূপালী গিটার ছেড়ে চিরতরে চলে গেলেন তিনি। আর কোনো দিনই সুর উঠবে না তার গিটারে। আইয়ুব বাচ্চু চলে গেলেও তার গানগুলো রয়ে যাবে মানুষের মনে।
এই সংগীতশিল্পী তরুণদের নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন। তিনি প্রায় বলতেন তরুণরাই একদিন বাংলাদেশের সংগীতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে আইয়ুব বাচ্চু তরুণদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তোমরা যা করছে সুপার করছো, চালিয়ে যাও। তোমাদের হাতেই বদলে যাবে বাংলাদেশ।
এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষকে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয় বলে জানিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আসলে মানুষের শুরুটা সুখকর হয় না। তাকে সংগ্রাম করে এগিয়ে যেতে হয়। আমার শুরুটাও তেমন ছিল। অনেক বাধা পেরিয়ে এ পর্যন্ত আসতে হয়েছে। সংগীত জীবনের শুরুটা আমার কষ্টের ছিল। প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়েছে। কিন্তু আমি হারতে চাইনি। আমি মনে করি মানুষের কাজ হচ্ছে উঠে দাঁড়ানো। পড়ে যাওয়া নয়। আর সে কাজটিই আমি করেছি। আমার গিটার নিয়ে করেছি। ব্যান্ড নিয়ে করেছি। মানুষ বলে না ‘মিউজিকের পাশাপাশি আপনি কী করেন’? আমি বলি, মিউজিকের পাশাপাশি মিউজিক করি। এটাই আমার রিজিক আর অন্য কোনো রিজিক নাই।
আইয়ুব বাচ্চুকে যখন বলা হতো আপনি কেমন আছেন? যত কষ্টই থাকুক না কেন তিনি বলতেন ভালো আছেন। এ বিষয়ে ইত্তেফাকের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। হ্যাঁ, মন খারাপের হাওয়া আমার জীবনেও অনেকবার বয়ে গেছে। কিন্তু তাতে আমি খারাপ আছি, এটা কেন জানি বলতে পারিনি। ওপরওয়ালার পর আমার সবকিছুর আধার ছিল আমার মা। মা যেদিন চলে যান সেদিন আমার মন ভালো ছিল না, থাকার কথা না। কিন্তু আমার সেই মায়ের আশীর্বাদটুকু নিয়েই আজও বেঁচে আছি। আর বেঁচে থাকি আমার সৃষ্টিগুলো নিয়ে, এই যে এত ভক্ত কতভাবে আমাকে ভালোবেসে বাঁচিয়ে রাখে।
এলআরবির এই কাণ্ডারি বাবা-মায়ের কর্তব্য পালন নিয়ে বেশ সচেতন ছিলেন। তরুণদের তিনি বলতেন, যদি মানুষকে ভালোবাসো, তবে দেশকে ভালোবাসো। দেশকে ভালোবাসলে মাকে ভালোবাসো। ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পরিবার, বন্ধু সবার খোঁজ-খবর নিও। কারণ জীবন একটাই।
বৃহস্পতিবার নিজের বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে জানানো হয়, হাসপাতালে আনার আগেই আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
