দেশে কোন সন্ত্রাসীবাহিনী থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৩৪
‘মহেশখালী হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এ অঞ্চলে জলদস্যু, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, গডফাদার, দখলবাজদের স্থান হবে না। পর্যায়ক্রমে সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হবে। দেশে কোন সন্ত্রাসীবাহিনী থাকবে না।
 
শনিবার সকাল ১১টার দিকে মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে র‌্যাব-৭ আয়োজিত মহেশখালী-কুতুবদিয়া অঞ্চলের চিহ্নিত জলদস্যুদের আত্মসমর্পণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এ  সুবর্ণ সুযোগে আত্মসমর্পণ করেনি এখনে তাদের আত্মসমর্পণ করার সুযোগ রয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এখন যারা আত্মসমর্পণ করেছে তারা যেন পুনরায় পূর্বের পেশায় ফিরে না যান।’
 
এ সময় জলদস্যু ও পেশাদার সন্ত্রাসী ৬টি গ্রুপের ৪৩ জন জলদস্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আত্মসমর্পণকারী প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
IMG0
আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা হলেন, সোনাদিয়ার বদিউল আলমের ছেলে আনজু ডাকাত (৩৩), মৃত মোস্তফার ছেলে সুমন মিয়া (৩৮), এখলাছ মিয়ার ছেলে মকছুদ মিয়া (৩২), আব্দুর রহমানের ছেলে মোনাফ মিয়া (২৮), মোজাফ্ফরের ছেলে মোবারক (২৭), বাহাদুর মিয়ার ছেলে মনজুর মিয়া (৩০), বাদশা মিয়া ছেলে নুরুল মোস্তফা নাগু (৩০), নুরুল মিয়ার ছেলে ছৈয়দ হোছন (৩০), বাহাদুর মিয়ার ছেলে নাবব মিয়া (২৯) আব্দুল গফুর নাগু মেম্বারের ছেলে ইমতিয়াজ উদ্দিন নকিব (৩১), কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর দুরুং মিয়াকাটা গ্রামের নজির আহমদের ছেলে রমিজ উদ্দিন (৫৩), লেমশিখালীর কবির পাড়া গ্রামের মৃত আবু মোছার ছেলে ছালেহ আহমদ ছইল্যা ডাকাত (৪৬), কালারমারছড়ার কালাবদা বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ শাহঘোনার আবুল কাশেমের ছেলে নুরুল আলম কালা বদা (৪৪), ফরিজুম পাড়ার মোহাম্মদ আমিনের ছেলে রশিদ মিয়া (২৯), নোনাছড়ি এলাকার নুরুল ইসলাম সওদাগরের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩৩) আধারঘোনা এলাকার করিম মিয়া ছেলে আলমগীর টুনু টুইন্যা (২৪), অফিস পাড়ার মৃত ইসমাইলে ছেলে আবু জাফর আবু জাইল্যা (৪৮), মোহাম্মদ শাহঘোনার নেজাম উদ্দিনের ছেলে আলা উদ্দিন (২৩), হোয়ানকের জালাল বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড কাঠালতলি গ্রামের ছিদ্দিক আহমদের ছেলে ইসমাইল (৩১) পূর্ব কালাগাজির পাড়া গ্রামের বশির আহমদের ছেলে মোস্তফা কামাল পারভেজ (২৫), কাঠালতলি পাড়া গ্রামের ছিদ্দিক আহমদের ছেলে ওসমান (৩০), পূর্ব কালাগাজির পাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আহমদ জামান (৪০), কাঠালতলি পাড়ার আবুল কালামের ছেলে নুরুল আমিন (২৬), ফরিদুল আলমের ছেলে আবু তাহের (৩১), ছিদ্দিক আহমদের ছেলে আব্দুল মান্নান (২৬), কেরুনতলী নয়াপাড়া গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে আব্দুল মান্নাত (৩৩), মুজিবুর রহমানের ছেলে রাশেদ (৩২) কালারমারছড়া নোনাছড়ি গ্রামের ছৈয়দ আহমদের ছেলে লোকমান (৩১), ফকিরজোম পাড়ার নুর আহমদের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩৫), ছোট মহেশখালী তেলিপাড়া গ্রামের মোঃ শরিফের ছেলে মো. শহিদুল্লাহ (৪৫), কালারমারছড়া আধারঘোনা মো. নছিমের ছেলে বাদল (৩৪), আধারঘোনা গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে মাহাবুব আলম (৩৫), মৃত মো. রফক উদ্দিনের ছেলে আতাউল্লাহ বাহারী (৩৩), হোয়ানকের আরেক সন্ত্রাসী আয়োব বাহিনীর আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা হল- পূর্ব কাঠাল তলি পাড়া গ্রামের মৃত বদর আমিনের ছেলে আব্দুল মান্নান কালু (২৫), ছৈয়দ মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (২৭), গোলাম কুদ্দুছের ছেলে রবিউল আলম (২২), মোক্তার আহমদের ছেলে মো রুবেল (২২), জোনাব আলীর ছেলে আবু তাহের (২৪) গোলাম কুদ্দুছের ছেলে মো. আনোয়ার (৩২) সিরাজ মিয়ার ছেলে আনোয়ার পাশা (২৭) করিম দাদের ছেলে মো. ইউনুছ, গোলাম কুদ্দুছের ছেলে মো. কামাল(৩৫), বড় মহেশখালীর আলা উদ্দিন বাহিনীর প্রধান ফকিরাকাটা গ্রামের সোনা আলীর ছেলে মো. আলা উদ্দিন (৪৫)।
IMG1
র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জলদস্যু আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহেশখালী কুতুবদিয়া সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, রামু কক্সবাজারের সংসদ সদস্য সায়মুন সরওয়ার কমল, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খোন্দকার গোলাম ফারুক, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন।
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হোছাইন ইব্রাহীম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জামিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান মারুফ, জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মশরফা জন্নাত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ব্রজ গোপাল ঘোষ, সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, অ্যাডভোকেট আবু তালেব, মাস্টার রুহুল আমিন ও মাহাবুব আলম।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ