বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তাকে বিএসএমএমইউতে যে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়, সেটিও পর্যাপ্ত নয়। তাকে অনুন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। অথচ এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল।
গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবিকে সরকার তাচ্ছিল্য সহকারে অগ্রাহ্য করেছে। কারণ খালেদা জিয়া সুস্থ হলে সরকারপ্রধানের প্রতিহিংসা চরিতার্থ হবে না। সে জন্যই আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে সজ্জিত বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ থেকে খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত করা হয়েছে।খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য তার পছন্দমতো চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ব্যবস্থা করার দাবি জানান রিজভী।
'ইসি মাহবুব তালুকদারের ছুটি রহস্যজনক’
এদিকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার যে ছুটি নিয়েছেন তা ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সাহেবকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা যেভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন তা সন্ত্রাসী আচরণ এবং তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন ছুটি নিয়েছেন নাকি নিতে বাধ্য করা হয়েছে তাও রহস্যজনক। ইসিকে সর্বোচ্চ চাপে রেখে কাজ করাচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কতিপয় কমিশনার ও কর্মকর্তারা নিজেরা যে আচরণবিধি তৈরি করছেন তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থি। কারণ, এই কমিশনের কয়েকজন অাধিকারিক কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে সরকারকে দিতে চান। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করার নজীর পৃথিবীর কোথাও নেই। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের সময় সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করতে আইন করতে চাচ্ছেন।
রিজভী বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চারদিকে নৈরাশ্যের ছবি। সরকার পুনরায় একতরফা নির্বাচন করার জন্য এখন এজিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হচ্ছে।
ইইউ ইসিকে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। অন্যান্য দাতা ও সাহায্য সংস্থা, বিদেশী মিশন থেকেও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
তিনি বলেন, বে আইনীভাবে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ অক্টোবর। আমরা আগেই বলেছি বিবাদীর অনুপস্থিতিতে মামলার রায় নির্ধারণ পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। সরকার প্রধানের নির্দেশেই সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে এ রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। সেজন্যই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রায়ের দিন ধার্য করে নিয়েছে। আরেকটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে কি না তা দেখার জন্য দেশবাসী প্রহর গুনছে।
ইত্তেফাক/নূহু
