সাদুল্লাপুরে বয়লার বিস্ফোরণে কলেজছাত্রী নিহত

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩৭
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের পশ্চিমপাড়ায় আলী হোসেনের চাতালের বয়লার বিস্ফোরণে শারমিন খাতুন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফুল মিয়া (৪০) ও উজ্জ্বল মিয়া (২৫) নামে চাতালের দুই কর্মচারী দগ্ধ হন। এদিকে এই খবর শুনে চাতাল মালিক আলী হোসেন (৬১) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
 
নিহত শারমিন ওই এলাকার শফিকুল ইসলামের মেয়ে ও জয়েনপুর আদর্শ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
 
আহত উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হামিন্দপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে চাতাল শ্রমিক ফুল মিয়া ও একই গ্রামের আবু বকরের ছেলে উজ্জ্বল মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
 
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন জানান, শারমিন মঙ্গলবার সকাল  ৭টার দিকে বাড়ির পাশে আলী হোসেনের চাতালের টিউবওয়েল পাড়ে কাপড় পরিষ্কার করছিল। ওই সময় চাতাল শ্রমিক ফুল মিয়া ও উজ্জ্বল মিয়া ধান সিদ্ধ করার জন্য বয়লারের চুলায় আগুন ধরানোর এক পর্যায়ে হঠাৎ বিকট শব্দে চাতালের ধান সিদ্ধ করার বয়লারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে বয়লারটি ভেঙে চুরমার হয়ে আশে পাশে ছিটকে পরে। ওই বয়লারের গরম পানিতে শারমিনের পুরো শরীর ঝলসে যায়। দগ্ধ হন চাতাল শ্রমিক ফুল মিয়া ও উজ্জ্বল মিয়া। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারমিনের অবস্থা অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।
 
ওসি আরো বলেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা চাতাল ও ধান ভাঙ্গা মিলটি অনেক পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই হয়তো এ বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। এছাড়া মিলটি জনবসতি এলাকায় হওয়ায় চালানোর মতো কোনও পরিবেশ নেই সেখানে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
 
এদিকে চাতাল মালিকের ছেলে রেজা মিয়া জানান, ‘চাতালের বয়লার বিস্ফোরণের খবর শোনার পর তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে তাকে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’
 
ইত্তেফাক/বিএএফ