গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছে তা করা নয়: ড. কামাল

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৮, ০২:৩৭
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছে তা করা নয়। সংবিধানে এমন ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আমাকে এসব দেখতে হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য বড় শাস্তি। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জামিনযোগ্য মানহানির মামলায় রাতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে স্বৈরতন্ত্রের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। আর গ্রেফতারের পর কোন গ্রাউন্ডে (যুক্তি) তাকে কারাগারে পাঠানো হলো আইনমন্ত্রীর কাছে এর জবাব চাই। বিনা কারণে কেন সরকার এসব করছে? এটা অত্যন্ত লজ্জাকর। দেশের অবস্থা বোঝার চেষ্টা কর। আমার এক বন্ধু সিনিয়র আইনজীবী আমাকে বলেছে, আওয়ামী লীগের নামে যা হচ্ছে তাতে কি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে?
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর সরকার বিচলিত হয়ে পড়েছে। সরকার বুঝতে পেরেছে ঐক্যফ্রন্ট থাকলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। গ্রাম পর্যন্ত ঐক্য হয়ে গেছে।
 
সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন মইনুল হোসেন। জামিনযোগ্য মামলায় তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এটা ঠিক হয়নি।
 
জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে  আরও বক্তব্য রাখেন সুব্রত চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী, এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ।
 
কামাল হোসেনের সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর বৈঠক
 
গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। গতকাল বৃহস্পতিবার ড. কামালের বেইলি রোডের বাসায় এ বৈঠক হয়।
 
রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৈঠক শেষে কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি। ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংবিধান রচনা করেছেন। এখন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। দেশের মানুষ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। আমি ড. কামাল হোসেনের সাত দফা দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত না হলেও এগুলোর প্রতি আমার যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। আমি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শুভকামনা করি। একটি গাড়ি চলতে থাকলে অনেক যাত্রী ওঠে। আমি এখন না উঠলে পরেও উঠতে পারি।’
 
বৈঠকে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে তার দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম দেলোয়ার উপস্থিত ছিলেন। আর ড. কামালের সঙ্গে ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক,  সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ অ ম শফিক উল্লাহ।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি