কিপার-ব্যাটসম্যানদের অভিজাত ক্লাবে মুশফিক

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৩৮
 
তার ব্যাটের উপর বাংলাদেশ দলের নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। ব্যাটসম্যান হিসেবে সেই আস্থার জায়গাটা তৈরি করেছেন মুশফিকুর রহিম। গত কয়েক বছরে ব্যাটিংয়ে দারুণ ধারাবাহিক তিনি। গত বুধবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেটা মুশফিকের জন্য অর্জনের ক্ষেত্র হয়েই ধরা দিয়েছিল।
 
ফিল্ডিংয়ের সময় তিনটি ক্যাচ ধরেছিলেন মুশফিক। তাতেই ওয়ানডেতে ২০০ ডিসমিসাল ও পাঁচ হাজার রানের ক্লাবে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। পরে ব্যাট হাতে অপরাজিত ৪০ রান করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। আর এই ইনিংসের মাধ্যমেই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানদের অভিজাত এক ক্লাবের সদস্য হয়ে গেলেন মুশফিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের রান এখন ১০ হাজার ১৫।
 
ক্রিকেট ইতিহাসে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিন ফরম্যাট মিলে সর্বোচ্চ রানের মালিক কুমার সাঙ্গাকারা। এই তালিকায় মুশফিকের অবস্থান এখন ষষ্ঠ। টেস্ট, ওয়ানডে, টি- টোয়েন্টি মিলে ১০ হাজার ১৫ রান করতে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক খেলেছেন ৩৩০ ম্যাচ। ৪৬৪ ম্যাচে লঙ্কান গ্রেট সাঙ্গাকারা করেছিলেন ১৭ হাজার ৮৪০ রান। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারতের সাবেক অধিনায়ক ৫১২ ম্যাচে ১৬ হাজার ৫০৬ রান করেছেন। তারপরেই আছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক ক্রিকেটার ৩৯১ ম্যাচে ১৫ হাজার ২৫২ রান করেছিলেন। ৪৬৬ ম্যাচে ১০ হাজার ৪৬৩ রান নিয়ে চতুর্থ স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক উইকেটকিপার মার্ক বাউচার। মুশফিকের ঠিক উপরেই আছেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। জিম্বাবুয়ের এই সাবেক ক্রিকেটার ২৪১ ম্যাচে ১০ হাজার ২৪৯ রান করেছিলেন।
 
আট হাজার রান করে মুশফিকের পরেই আছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার অ্যালেক স্টুয়ার্ট, নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। হাল আমলের দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক ছুটছেন বেশ ভালো গতিতে। ছয় বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ডি কক ছয় হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে গেছেন।
 
তিন ফরম্যাট মিলে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজারী ক্লাবে প্রবেশ করেছেন মুশফিক। সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৪ রান করেছেন তামিম ইকবাল। এই বাঁহাতি ওপেনার খেলেছেন ৩০৭ ম্যাচ। ২০টি সেঞ্চুরির মালিক তিনি। ৩১৪ ম্যাচ খেলে তামিমের পরেই অবস্থান সাকিব আল হাসানের। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার করেছেন ১০ হাজার ৫৪২ রান। ১২টি সেঞ্চুরি আছে তার। তৃতীয় স্থানে থাকা মুশফিকের সেঞ্চুরির সংখ্যা ১১।
 
এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৪৪ রানের বিরাট ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। পরে পাকিস্তানের বিপক্ষেও ৯৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন। এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অচিরেই অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার-বাউচারদের ছাড়িয়ে যাবেন এই বাংলাদেশি।
 
তিন ফরম্যাটে সেরা কিপার-ব্যাটসম্যানরা
 
নাম                               ম্যাচ                  রান
 
কুমার সাঙ্গাকারা              ৪৬৪                 ১৭৮৪০
 
মহেন্দ্র সিং ধোনি              ৫১২                 ১৬৫০৬
 
অ্যাডাম গিলক্রিস্ট             ৩৯১                 ১৫২৫২
 
মার্ক বাউচার                   ৪৬৬                 ১০৪৬৩
 
অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার                ২৪১                 ১০২৪৯
 
মুশফিকুর রহিম                ৩০২                 ১০০১৫
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ