ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে জাপানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক। টোকিও এবং বেইজিংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক সংঘাত চলে আসছে এবং বর্তমানেও দু’দেশ আঞ্চলিক বিরোধে জড়িত। এর মধ্যেই শুক্রবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে গিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো অ্যাবে দু’দেশের সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক মোড় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। সাত বছরের মধ্যে চীনে জাপানের কোনো সরকার প্রধানের এটিই প্রথম সফর।
অ্যাবে বলেন, জাপান ও চীনের এখন প্রধান কাজ হলো অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে একযোগে কাজ করাসহ উত্তর কোরিয়া নিয়েও কাজ করবে দু’দেশ।
জাপান এবং চীন একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করে আসলেও রাজনৈতিক দিক থেকে দেশ দুইটির সম্পর্ক প্রায়ই নাজুক হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীনের কিছু অংশ দখল করে নেওয়া জাপানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক এখনো কণ্টকাকীর্ণ। কয়েকটি বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে দু’দেশ এখনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেরই বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্য নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর রপ্তানি কঠিন হয়ে উঠছে। আর এর প্রেক্ষাপটেই জাপান ও চীন একে অপরের কাছাকাছি আসছে।
বেইজিং সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী অ্যাবে সাংবাদিকদের বলেছেন, “প্রতিযোগিতা থেকে সহাবস্থান সব ক্ষেত্রেই জাপান ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।”-রয়টার্স।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
