আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই মুহূর্তে সড়ক পরিবহন আইন পরিবর্তন (সংশোধন) করে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব না। গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর সেতু ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসে টিরিংকের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পরিবহন শ্রমিকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই মুহূর্তে বলতে চাই, ধর্মঘট প্রত্যাহার করুন, মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো লাভ নেই। এই মুহূর্তে আইন পরিবর্তন করতে তো পারব না। পরবর্তী পার্লামেন্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন, কোনো ন্যায়সঙ্গত বিষয় থাকলে পরে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে। আজ সোমবার পার্লামেন্টের অধিবেশন শেষ হবে। এরপর পার্লামেন্টের কোন সদস্য ক্ষমতা প্রয়োগ অথবা কোন কাজ করতে পারবে না।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ঐক্যফ্রন্ট হা-হুতাশ করছে। অপজিশনের কাজই হলো ক্রিটিসাইজ করা। তারা সাত দফা দাবি দিয়েছে। এই মুহূর্তে সাত দফা মেনে নিতে হলে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। যা কোনো অবস্থাতেই সম্ভব না। কাজেই এ দাবির ব্যাপারে তারা যদি স্ট্রাইক করেন, অনড় থাকেন, তাহলে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
দেশে এখন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যেটা তাদের দরকার একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি গঠন করে সব দলের প্রতিনিধিকে নিয়ে ইলেকশন কমিশন গঠন করেছেন। কাজেই এটা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও যদি পরিবর্তন চায় তাহলে বুঝতে হবে, আসলে তারা ইলেকশন চায় কি না-সেটাও বড় প্রশ্ন।’
‘খুনিদের সঙ্গে হাত মেলানোয় আপনাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে’
এদিকে গতকাল বিকালে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় হারুন মোল্লা ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক গণসংযোগ অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কামাল হোসেন সাহেব বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী হয়ে তার খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। যারা যুদ্ধপরাধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যারা স্বীকৃত সন্ত্রাসী, তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর ফল আপনাকে একদিন পেতেই হবে। এজন্য কঠিন শাস্তি পেতে হবে।’
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আন্দোলনের কথা বলেন গত ১০ বছর ধরে। ঈদের পর আন্দোলন। ঈদ আর আসে না। দেখতে দেখতে ১০ বছর পার হয়ে গেলো। কবে হবে আন্দোলন?’ এ সময় তিনি বিএনপিকে ভুয়া, ভুয়া বলে স্লোগান দেন।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, নির্বাচনে এক আসন থেকে হয়তো মনোনয়ন জমা দিবেন ১০ জন। তাদের মধ্য থেকে শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন, বাকিরা তার হয়ে কাজ করবেন। কেউ ঘরের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি করবেন না।
ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু
