শাস্তি কমছে স্মিথ-ওয়ার্নারদের?

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৪৯
বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির জের ধরে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া তিন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের শাস্তি কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।  কারণ, স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফটের শাস্তির মেয়াদ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে খোদ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন (এসিএ)।
 
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্তৃপক্ষে চাপের কারণে খেলোয়াড়রা এটা করতে বাধ্য হয়েছে, তাই তাদের শাস্তির মেয়াদ কমানো উচিত। সাবেক টেস্ট উইকেটরক্ষক ও এসিএ সভাপতি গ্রেগ ডায়ার বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার ঘটনাটি ছিল সংস্কৃতির ফসল এবং জয়ের জন্য খেলোয়াড়দের ওপড় চাপ সৃষ্টির পদ্ধতিই এ জন্য দায়ী। বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে এবং তাদের শাস্তির মেয়াদ কমাতে হবে।’
 
গত মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তৃতীয় টেস্টে বলের আঁকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিরিস কাগজ ব্যবহারের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন অস্ট্রেলিয়ার তিন খেলোয়াড় স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফট।  এ ঘটনার পর তত্কালীন অধিনায়ক স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নারকে এক বছর এবং ওপেনিং ব্যাটসম্যান ব্যানক্রফটকে নয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।  তবে, সমপ্রতি অস্টেলিয়া জাতীয় দলের হতাশাজনক পারফরমেন্সের পর স্মিথ ও ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে আনার দাবি আরো জোড়ালো হচ্ছে।
 
নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে বিশ্ব জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে এ ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একটি কমিটি গঠন করে।  কমিটিতে ছিলেন সাবেক অজি ব্যাটসম্যান রিক ম্যাককসকার, এথিক কনসাল্টেন্ট পিটার কলিনস, অসি কোচ জস্টিন ল্যাঙ্গার, টেস্ট অধিনায়ক টিম পাইন, নারী দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক রাচেল হেইন্স, প্যাট কামিনস, জর্জ বেইলি এবং শেন ওয়াটসন।
 
এই কমিটির দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষের এক রোখা সংস্কৃতি ও পারিপার্শ্বিকতার কারণে তিন টেস্ট খেলোয়াড় এমনটা করেছেন।  তাই পুনরায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার সুযোগ দিতে তিন জনের শাস্তির মেয়াদ কমানো উচিত।
 
সিএ’র কঠোর সমালোচনা করে এ ঘটনায় গঠিত একটি স্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি জানিয়েছে যে কোনো মূল্যে জয় পেতে কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের ওপড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
 
সিএ’র এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘সিএ’র বিবৃতি আমরা দেখেছি।  তবে, মনে রাখতে হবে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের এই দাবি লিখিত আকারে আমাদের কাছে আসতে হবে।  আমরা বিষয়টা অবশ্যই এসিএ’র সাথে মিলে খতিয়ে দেখবো।  যাই হোক না কেন, আমরা দু’পক্ষই তো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের মঙ্গলই চাই।’
 
ইত্তেফাক/কেআই