‌‘একদিনে ১৩হাজার রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছিল বিএনপি’

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৮
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার একদিনে ১৩ হাজার রেলের কর্মকর্তা কর্মচারীকে ছাঁটাই করে রেলকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে রেলওয়ে লোকসান প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছিল। বর্তমান সরকার বিদেশ থেকে ৪৬টি উন্নতমানের রেল ইঞ্জিন ও প্রায় দুই শতাধিক উন্নতমানের রেল কোচ আমদানি করেছে। 
 
তিনি আজ শনিবার দুপুরে পটিয়া রেল স্টেশন চত্বরে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেল লাইনে দুটি যাত্রীবাহী রেলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 
 
রেলমন্ত্রী বলেন, রেলের উন্নয়নের পাশাপাশি রেল এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধি করেছে। দেশের সব বিভাগীয় শহরগুলোকে রেলের নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে রেলের উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় দেশের সব বিভাগীয় শহরে বুলেট ট্রেন যাবে। সর্বপ্রথম ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে। ঢাকা-বরিশাল রুটে ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আবারো ক্ষমতায় গেলে বুলেট ট্রেন, পাতাল ট্রেন ও ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মা, বাবা, ভাই ও স্বজন হারানোর ব্যাথা নিয়ে দেশের ১৬ কোটি মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। তিনি দেশের মানুষকে এতে ভালোবাসেন তাই জনগণের সেবা করাই তার শান্তি। জিয়া, এরশাদ, খালেদা শেখ হাসিনার মতো উন্নয়ন করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর পর এ দেশ যারা পরিচালনা করেছিল কোন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো উন্নয়ন করতে পারেনি। একটি দেশ উন্নয়নশীল হতে হলে তিনটি স্তরে পার হতে হয়। এ দেশের তিনটি স্তর পার হওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্থান পেয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সারা দুনিয়ায় মান সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। 
 
আর্ন্তজাতিকভাবে শেখ হাসিনা মাদার অব হিউমিনিটিসহ ২৯টি সম্মানসূচক উপাধি লাভ করেছে। কিন্তু খালেদা জিয়া কোনো সময়ে একটি উপাধি পায়নি। প্রধানমন্ত্রী রেল ছাড়াও শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছে। আবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগনের ভালোবাসা ও ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবে। আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় আসলে দেশের সবগুলো বিভাগ ও জেলায় রেলকে সম্প্রসারণ করা হবে।
 
পটিয়া যাত্রী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, জাসদ একাংশের সভাপতি ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সাংসদ মাঈন উদ্দিন খান বাদল, পটিয়ার সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী, চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, রেল মন্ত্রনালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন, রেলের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল হক, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফারুক আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা: তিমির বরন চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য দেবব্রত দাশ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের সুজন, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল খালেক, পৌর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আলমগীর আলম, পৌর কাউন্সিলর শেখ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
 
সমাবেশ শেষে মন্ত্রী পতাকা উড়িয়ে রেলের যাত্রা উদ্বোধন করেন। রেলটি পটিয়া ষ্টেশন থেকে দোহাজারী উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। 
 
প্রসঙ্গত, উদ্বোধন হওয়া এ লাইনে চলাচলরত রেলটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের দোহাজারী স্টেশন থেকে সকাল ৬টা ৪০মিনিটে নগরীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। আবার সন্ধ্যা ৬টার সময় তা চট্টগ্রাম নগর থেকে ছেড়ে আসবে। 
 
এছাড়া দোহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ফার্নেস তেলবাহী ওয়াগণ ট্রেন চলাচল করে এ লাইনে। 
 
ইত্তেফাক/কেকে