নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনও নৌকার বিপক্ষে কাজ করে: মেয়র আইভী

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:০২
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের নৌকাকে ইউনিয়ন পরিষদে ফেল করিয়েছে। আমরা কি তাদের পাশে গিয়ে তখন দাঁড়িয়েছিলাম? জেলা আওয়ামী লীগ কি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল? আমি তো অন্তত যাইনি, আমাকে কেউ যেতেও বলেনি। আমি আমার পদের কারণে সেখানে যেতে পারিনা, যাওয়া নিষেধ। আমার পদবী আমাকে যাওয়ার অনুমতি দেয়না। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগ তো পাশে গিয়ে দাঁড়ায় নাই। কেন ফেল করানো হয়? জনপ্রিয় প্রার্থীদেরও কেন ফেল করানো হয়েছে? কে ফেল করালো কি কারণে করালো। তার মানে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনও নৌকার বিপক্ষে কাজ করে, বর্তমান যে প্রশাসন আছে। প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েই তারা কেন্দ্রগুলো দখল করেছে। গোগনগর ইউনিয়নেরটা আমি কম বেশি জানতাম। সেখানে কিন্তু পুলিশ আওয়ামী লীগের নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছে, ভোট দিতে দেয়নি। নওশাদ সাহেবের সামনে কিন্তু সিল মেরেছে। কার নির্দেশে কার প্রয়োজনে আমরা কিন্তু সকলেই জানি।’
 
শনিবার জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে দুপুরে শহরের ২নং রেলগেটস্থ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
আইভী বলেন, ‘আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক সাহেবের নারায়ণগঞ্জে একটি কর্মসূচি ছিল যেখানে তিনি উন্নয়নের কথা তুলে ধরতেন সাধারণ মানুষের মাঝে। কিন্তু কেন তাকে এখানে আসতে দেওয়া হলোনা? আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেদিন নারায়ণগঞ্জে নৌকায় নৌকায় সব কিছু একাকার হয়ে যেত। সেই ভয় পেয়ে যারা হুমকি দিলো, আসলে গণ্ডগোল হবে, আসলে এই হবে, শ্রমিকদের ফতুল্লাতে সমস্যা এ ধরনের মিথ্যা বলে যারা নারায়ণগঞ্জকে জুজুর ভয় দেখাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের একত্রিত হওয়া উচিত। ভয় কিসের? মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তাহলে আমরা মৃত্যুকে কেন ভয় পাবো।’
 
তিনি আরো বলেন, ‘শুক্রবার জাতীয় পাটির্র সভাতে যেসব আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী স্টেজে উঠে বক্তব্য দিয়েছেন, সেলিম সমানের জন্য ভোট চেয়েছেন তাদেরকে আমি ধিক্কার জানাই। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যও সেখানে ছিল। আমি জানি না তারা দলকে এবং নেত্রীকে কেমন ভালোবাসে। কি কারণে সেখানে যাবেন? যদি নেত্রী (শেখ হাসিনা) তাকে এই আসনে মনোনয়ন দেয় তাহলে দলের স্বার্থে আমরা সবাই তার পক্ষে থাকবো। কিন্তু দলের নির্দেশ ছাড়া আমরা তার পক্ষে থাকতে পারি না, ভোট চাইতে পারি না। এতো সুবিধাবাদী হলে তো চলবে না।’
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ