যশোরের কেশবপুরে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা সাজ্জাত হোসেন বিনা চিকিৎসায় পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। তার ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলেও মামলা নেওয়া হয়নি। দুই পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় স্ত্রী রেহেনা সাকির কাঁধে ভরকরে শনিবার দুপুরে কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাজ্জাত হেসেন এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা যুবলীগ কেশবপুর শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু সাঈদ লাভলুর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী। সম্প্রতি আবু সাঈদ লাভলুর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা আদায়, মাছের ঘের দখল, চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনসহ অসংখ্য অভিযোগে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। তার বিরুদ্ধ ৮৩ লাখ ২৮ হাজার টাকার চাঁদাবাজির পোস্টার লাগানো হয় কেশবপুরের পাঁজিয়া এলাকায়। নির্যাতিতদের মধ্যে পাঁজিয়া এলাকার মাসুম বিল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, শাহিনুর রহমান, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, গনেশ হালদার, ছাত্তার সরদার, প্রশান্ত বিশ্বাস ও বিশু দর্জিসহ অর্ধ শতাধিক নেতা কর্মী আহত হন। লিফলেট বিতরণ নিয়ে লাভলু সাজ্জাত হেসেনকে সন্দেহ করেন।
১ অক্টোবর লাভলুর নেতৃত্বে পাঁজিয়া এলাকার ১৫/১৬ জনের একদল সন্ত্রাসী পাঁজিয়া বাজার থেকে সাজ্জাত হেসেনকে ধরে নিয়ে পাঁজিয়া গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গাছের সাথে বেঁধে বেদম প্রহর করে দুই পা ভেঙ্গে দেয়। সাজ্জাত হোসেনকে মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা তাকে ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসী গভীর রাতে সাজ্জাত হোসেনকে উদ্ধার করে কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় এক মাসের বেশি সময় পার হলেও সাজ্জাত হেসেনের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বর্তমানে টাকার অভাবে তিনি চিকিৎসা করাতে পরছেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করেছেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ
