চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ :চরম গ্যাস সংকট

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১:৫৭
টেকনিক্যাল সমস্যায় গত শনিবার রাত থেকে চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এখন জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হঠাত্ এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে চরম গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাইপ লাইনে চাপ কমে যাওয়ায় শিল্প কারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক গ্রাহকরাও গ্যাস সংকটের কবলে পড়েছে। এলএনজি সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র  জানায়, মহেষখালীতে এলএনজি টার্মিনালে সরবরাহের প্রক্রিয়ায় টেকনিক্যাল ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে শনিবার রাত ১টা থেকে চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টেকনিক্যাল সমস্যা এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা সমস্যা চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এলএনজি সরবরাহের পর থেকে চট্টগ্রামে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছিল।। হঠাত্ করে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে সকল পর্যায়ের গ্রাহক।
 
জানা যায়, বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। অথচ এতোদিন এলএনজিসহ চট্টগ্রামে ৩৭০/৩৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হতো। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এলএনজি সরবরাহ কবে চালু হবে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। এসব টেকনিক্যাল সমস্যা। চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হতো এলএনজি সরবরাহের পর তা দেশের অন্য এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে ঐ সব এলাকায় হঠাত্ করে সরবরাহ বন্ধ করা যাবে না। তাই সরবরাহ সমন্বয় করে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সময় লাগবে।
 
এলএনজি বন্ধের কারণে গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রামে আবাসিক ও শিল্প কারখানায় গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। পাইপ লাইনে চাপ কমে যাওয়ায় শিল্প কারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস কন্ট্রোল রুম জানায়, গ্যাস না পাওয়া ও চাপ কম থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকদের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দিনের বেলায় শিল্প কারখানা চালু থাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
 
কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানি সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এলএনজি সরবরাহের পর রাউজানের একটি ইউনিট ও শিকলবাহায় দু’টি ইউনিটে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়েছিল। এখন এই তিনটি ইউনিটে বিদ্যুত্ উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এই তিনটি ইউনিট থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হতো। তবে সিইউএফএল ও কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
 
পিডিবি কন্ট্রোল রুম জানায়, গতকাল রবিবার দিনে চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো থেকে ৫৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উত্পাদন কমে যাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং করতে হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু