খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার টেকসই উন্নয়নে ‌সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ: খাদ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৪৭
খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন,  সরকার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার টেকসই উন্নয়নে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
 
আজ সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পুষ্টি বিষয়ক কার্য অনুসরণ এবং পুষ্টি সংবেদনশীল পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) ব্যবস্থা উন্নয়ন ও প্রসারের উপর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কারিগরি সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন অংশীদার, গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং বেসরকারি খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ জন প্রতিনিধি।
 
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার উন্নতিতে কৃষি খাতে উৎপাদনের স্থিতিশীলতা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মনে রাখতে হবে, যে কৃষি হচ্ছে আমাদের সমস্ত পুষ্টির মূল উৎস। কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি সংশ্লিষ্ট ১৭টি মন্ত্রণালয়ের সহযোগে খাদ্য মন্ত্রণালয় “পুষ্টি-সংবেদনশীল খাদ্য ব্যবস্থা” উন্নয়নে সম্প্রতি যে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তার সঠিক বাস্তবায়নই অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
 
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ) এর মহাপরিচালক মো. বদরুল আরেফিনের স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেয়ার পর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে অতিথি বক্তা হিসেবে আগত পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থা বিভাগের উপ-পরিচালক গ্রিন্টার হেমরিচ খাদ্য ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করেন। তার বক্তব্যে উৎপাদন থেকে খাবারের থালা পর্যন্ত খাদ্য-শৃঙ্খলের প্রতিটি পর্যায় আমাদের খাদ্য এবং পুষ্টি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে বিধায় সব ক্ষেত্রেই যথাযথ উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে উল্লেখ করেন। 
 
 
IMG0
 
এ পর্যায়ে বক্তারা মতামত প্রকাশ করেন, দেশের সব নাগরিকের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অবস্থার সার্বিক উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বাস্থ্য-সম্মত খাদ্যাভ্যাস বিষয়ে সচেতনতার অভাব, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য জ্ঞানের অভাব, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও আরও রয়েছে কৃষি জমির অভাব ও অস্বচ্ছলতার সমস্যা। 
 
টেকসইভাবে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশি বাধাগ্রস্ত করতে পারে এরূপ কারণ চিহ্নিত করে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগের ঝুঁকি, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, খাদ্য ও স্বাস্থ্যের মধ্যে অন্তর্নিহিত সম্পর্কগুলো বিশ্লেষণ করে চলমান বাস্তবতায় সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানগুলো আলোচনার মাধ্যমে চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা এ মুহূর্তেই জরুরি হয়ে পড়েছে।
 
জাতিসংঘভুক্ত সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রিচার্ড রাগান, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এডওয়ার্ড ব্যাবেডার, বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বার্ডান জং রানা এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ডেভিড ডুলানসহ উপস্থিত সম্মানিত অতিথিরা নিজ নিজ সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত পুষ্টির জন্য পুষ্টি-সংবেদনশীল খাদ্য ব্যবস্থাসহ বহুক্ষেত্রীয় সম্মিলিত পদ্ধতি গ্রহণ ও
কার্যকারী বাস্তবায়ন জোরদার করণের পক্ষে মত দেন।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিনিস্টার কাউন্সিলর ও বাংলাদেশে ই.ইউ-এর উন্নয়ন সহযোগিতা কার্যক্রমের প্রধান (হেড অফ কো-পারেশন) মারিও রনকোনি এবং বাংলাদেশে ইউএস-এইড’র উপ-পরিচালক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রধান ডেভিড ওয়েস্টারলিং উভয়েই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার উন্নয়নের জন্য কৃষি, খাদ্য ও স্বাস্থ্য খাতসমূহের পুষ্টি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একীভূত কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তাদের নিজ নিজ দেশের সংস্থার পক্ষ থেকে মত প্রকাশ করেন।
 
রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কারিগরি সম্মেলনে আইসিএন-২ এর আলোকে বাংলাদেশে কার্য সম্পাদন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও সম্মেলনের দ্বিতীয় দিবসে আজ সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সব সরকারি সংস্থা, ইউনিসেফ, সান নেটওয়ার্ক, উন্নয়ন অংশীদাররা ছাড়াও বেসরকারি খাতের উপস্থিতিতে ওয়াশ কৌশলগুলির ওপর পুষ্টির প্রভাব সম্পর্কে প্রামাণিক তথ্যভিত্তিক একটি কারিগরি সিম্পোজিয়াম সফলভাবে শেষ হয়েছে।