রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ২১:০১
রাজধানীর বিভিন্নস্থানে পৃথক ঘটনায় সাতজনের অপমৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবুজবাগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান শুভ আহমেদ (৩৫) ও শুভ চন্দ্র রায় (২৬) নামে দুই গ্রিল মিস্ত্রি। অপরদিকে দক্ষিণখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান অজ্ঞাত পরিচয়ের (২৫) যুবক, খিলক্ষেতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের (৩৫) ব্যক্তি মারা গেছেন, যাত্রাবাড়ীতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্বপন (৩০) নামে এক যুবক, তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়ায় সমরেশ মধু নামে (২৫) যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফালু হোসেন ফারুক (৪০) নামে এক হাজতীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 
 
জানা যায়, সবুজবাগের দক্ষিণ মাদারটেক এলাকার একটি বাসায় গ্রিলের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শুভ আহমেদ ও শুভ চন্দ্র রায় নামে যুবকের মৃত্যু হয়। সবুজবাগ থানার এসআই সাইফুর রহমান জানান, নিহত দুইজন সবুজবাগ ব্লু-বার্ড স্কুলের পিছনে একটি গ্রিলের দোকানের কর্মচারী। শুভ সেখানেই থাকতো। বুধবার সকাল ১০ টার দিকে সবুজবাগ দক্ষিণ মাদারটেক বাগানবাড়ি ইউনুস মিয়ার তৃতীয় তলার বাসায় গ্রিলের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনই গুরুতর আহত হয়। দুজনকে উদ্ধার করে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে। 
 
শুভ মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের এমদাদ হোসেনের ছেলে। শুভ চন্দ্র রায়ের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার পাটোকামারী গ্রামে।ঢাকায় রাজারবাগ ব্যাংক কলোনিতে থাকতেন।
 
এদিকে ঢাকা রেলওয়ে (কমলাপুর) থানার এসআই নজরুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খিলক্ষেতে ময়মনসিংহগামী অগ্নিবীণা ট্রেনে কাটা পরে অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবক মারা গেছেন। নিহতের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে। যুবকের পরনে ছিল হলুদ গেঞ্জি ও নীল জিন্স প্যান্ট।
 
অপরদিকে দক্ষিণখানের আজমপুর মধ্যপাড়ার আব্দুল কাদের সরণীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবকের মৃত্যু হয়। এক পথচারী তাকে উদ্ধার করে বুধবার সকালে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 
 
দক্ষিণখান থানার এসআই আসাদুজ্জামান জানান, ওই রোডের ৯৫ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় গ্রিল বেয়ে চুরি করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে তিনি মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। 
 
এদিকে উত্তর যাত্রাবাড়ীর ২১ নম্বর ধলপুরের একটি বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্বপন নামে যুবক আত্মহত্যা করেছেন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের সিরাজ মিয়ার ছেলে স্বপন। একটি কাগজের কারখানায় কাজ করতেন তিনি। 
 
নিহতের ভাই শফিক জানান, বাসার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে স্বপনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাকে মঙ্গলবার রাত ২টায় মৃত ঘোষণা করেন। 
 
অপরদিকে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের পূর্ব নাখাল পাড়া লিচু বাগান এলাকার ৩৩০/এফ নম্বর বাসা থেকে সমরেশ মধু নামে যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নাভানা গ্রুপে চাকরি করতেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই আক্তারুজ্জামান মুন্সি লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠান। বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলার অর্জুন মধুর  ছেলে সমরেশ। 
 
তার চাচাতো ভাই উজ্জ্বল জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সমরেশকে বাসায়  রেখে রুমমেটরা কাজে চলে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা বাসায় ফিরে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর  পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
 
এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে অচেতন অবস্থায় ফালু হোসেন ফারুক নামে এক হাজতিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় মৃত  ঘোষণা করেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী আবু হানিফ জানান, মোহাম্মদপুর থানার মাদক মামলার আসামি ছিলেন ফালু। তার বাসা মোহাম্মদপুর তুরাগ হাউজিংয়ে। বাবার নাম সিদ্দিক মিয়া। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ