বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪২ স্পটে খনন করবে উত্তর সিটি

* খালের সীমানা পিলার বসাবে সেনাবাহিনী, উদ্ধার অভিযান ও পরিষ্কার কাজ চলবে: আতিক

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:৪৩

দখল ও ময়লার স্তূপের কারণে ঢাকার খালগুলো মৃতপ্রায়। তবে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের কারণে খালগুলোতে ফিরছে পানিপ্রবাহ। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন খাল বাধাগ্রস্ত হওয়া আরো ৪২টি স্পট চিহ্নিত করে সেখানে খননের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে খালের পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। আর এই কাজটি করবে উত্তর সিটির প্রকৌশল বিভাগ। খুব শিগ্গিরই কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি। অন্যদিকে এই খননের পর ম্যাপ অনুযায়ী খালের সীমানা নির্ধারণ করে সীমানা পিলার বসানোর কাজ শুরু করবে সেনাবাহিনী। আর পিলার বসানোর পরে সেই পিলার অনুযায়ী খাল উদ্ধার অভিযানে নামবে উত্তর সিটি করপোরেশন।

উত্তর সিটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, উত্তর সিটির সবগুলো খালের ফিজিবিলিটি স্টাডি করে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তারপর তা বাস্তবায়ন করা হবে। ম্যাপ অনুযায়ী আমরা যে খাল পাব সেটিই উদ্ধার করার জন্য কাজ করব। সেনাবাহিনী জরিপ করে খালের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ নির্ধারণ করে সীমানাপিলার বসিয়ে দিবে। এর পরেই আমরা একটার পর একটা উচ্ছেদে যাব।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরো বলেন, উত্তর সিটির আওতায় যে খালগুলো রয়েছে, এর মধ্যে রামচন্দ্র খাল, রামপুরা খাল, কল্যাণপুর চ খাল, সাগুফতা খাল, ইস্টার্ন হাউজিং খাল, বাইশটেকি খাল, সবুজবাংলা খাল, ভাসানটেক খাল, প্যারিস রোড খাল, মদিনা নগর খাল উল্লেখযোগ্য। এসব খালে পানি প্রবাহ ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের বাধা রয়েছে। সেই বাধাগুলো সরানোর কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। আগামী বর্ষাকে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের এই ৪২টি স্পটে জরুরিভাবে খনন করতে হবে। এটি আগামী বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য আগাম প্রস্তুতি।

যে সব স্পটে খনন হবে: খালের ডেড স্পট হিসেবে শনাক্ত করা খননের উদ্যোগ নেওয়া জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে : মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ের রোড ৩ থেকে ৪ পর্যন্ত, রোড ৬, রহিম ব্যাপারী ঘাটের উত্তর পাশ, দক্ষিণ পাশ, মোহাম্মদিয়া হোমস লিমিটেডের সামনে, আদাবর সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর অফিসের সামনে, অফিসের বিপরীত পাশে, কল্যাণপুর পাম্প স্টেশনের জলাধারের পূর্বপাশ, উত্তর-পশ্চিম পাশ, ইস্টার্ন হাউজিংয়ে জি ব্লক রোড নং ২-এর মাথা থেকে বাইতুল ইবাদাহ জামে মসজিদ পর্যন্ত, প্লট নং কে ৭ ইস্টার্ন হাউজিং-এর সামনে, এল ব্লক বকুল তলা, হোটেল সংলগ্ন, কালসি স্টিল ব্রিজের উত্তর পাশ, এসটিএস থেকে পলাশনগর সবুজবাংলা নতুন ব্রিজ, প্যারিস রোড খালের ডি ব্লক, মিরপুর ১০, ঝুটপট্টি, অ্যাভিনিউ ৫, সি ব্লক, মিরপুর ১১, মদিনা নগর অ্যাভিনিউ ৫, সি ব্লক, রামপুরা ব্লক এ, রোড ৯, বাড়ি নং- ৬/বি/১, দক্ষিণ বিশিল, ৩য় কলোনি, বাড়ি-৬৫/৪/এ, পঙ্গু হাসপাতাল সংলগ্ন পূর্বপাশ, কল্যাণপুর পাম্প স্টেশনের জলাধার, আবদুল্লাহপুর স্লুইস গেট থেকে উত্তর থানা ব্রিজ পর্যন্ত, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে চন্ডালভোগ ব্রিজ পর্যন্ত, ফুলবাড়িয়া টেক পাড়া থেকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত, আনন্দবাজার থেকে ভাঙ্গা ব্রিজ, বাশেরপুল হাবিবুল্লাহ রোডের সামনে, দিগন্ত পেট্রোল পাম্প থেকে কালশি স্ট্রিল ব্রিজ, কালশি রোড ব্রিজ থেকে দক্ষিণ দিকে, মসজিদুল জুমা কমপ্লেক্স থেকে কালশি মেইন রোড, কালশি ব্রিজের উত্তর পাশে কাঁচা রাস্তার কর্নারে, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবনের পশ্চিম পাশ, ঢাকা রিয়েল এস্টেটের পুরাতন দুইটি কালভার্টের নিচে এবং কাদিরাবাদ হাউজিং রোড ২, ৫ ও ৬।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসির খাল উদ্ধারে ৪২টি ডেড স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব জায়গায় জনগণের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান ও পরিষ্কার অভিযান কার্যক্রম চালানো হবে। তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাজ করছে। সবাই মিলে সবার ঢাকাকে দখল ও দূষণমুক্ত করে সবার বাসযোগ্য সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকায় পরিণত করতে হবে।

ইত্তেফাক/এমআর