হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে ‘নবজাতক বিক্রি’!

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৮:১৪

চাঁদপুরের মতলবে  সিজারের বিল পরিশোধ করার জন্য নবজাতককে বিক্রিতে বাবাকে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের বিরুদ্ধে। ২৬ জানুয়ারি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার পালস এইড জেনারেল হাসাপাতালে অ্যান্ড ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে হাসপাতালে শিশুটির অভিভাবকরা কান্নাকাটি করলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী শরিফুল হাসান ও  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান মিথেন। 

নবজাতকের  মা-বাবার অভিযোগ, সিজার অপারেশনের ২৬ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করার সামর্থ্য না থাকায়  সন্তানকে কৌশলে বিক্রি করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর কাঁদতে কাঁদতে তারা বাড়ি চলে যান। হাসপাতালের বিল পরিশোধের সামর্থ্য না থাকায় শিশুটির দরিদ্র বাবা-মা জোরালো প্রতিবাদও করতে পারেননি।

গত ২৬ জানুয়ারি মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় গ্রামের দিনমজুর মো. আলমের স্ত্রী তামান্না বেগমের প্রসবব্যথা উঠলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ছেংগারচর পালস এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশনে পুত্রসন্তান জন্ম দেন তামান্না। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকেন তিনি। রিলিজের সময় ক্লিনিকের বিল আসে ২৬ হাজার টাকা।

নবজাতকের বাবা জানান, ওই টাকা পরিশোধ করার সামর্থ্য ছিল না তাদের। এ অবস্থায় ছেংগারচর বাজারের কাউসার নামে একজন ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এক  নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল নিয়ে নেয়। কিন্তু সন্তান বিক্রির পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন মা।  

হাসপাতালে ব্যবস্থাপক লিমন সিকদার বলেন, ‘সিজারিয়ান অপারেশন আমাদের এই হাসপাতালে হয়েছে। কিন্তু বাচ্চা বিক্রির বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান মিথেন বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম। তবে লোকমারফত শিশুবিক্রির ঘটনাটি জেনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে  শিশু কনসালটেন্ট ডাক্তার ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে  ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এএইচপি/এনই