পেট্রাপোলে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:২৩

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে হয়রানির প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ডাকা ধর্মঘটের ৩ দিন পার হলেও কোন সমস্যার সমাধান হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কলকাতার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। এ সমস্যা সমাধানে কলকাতাসহ আরও তিনটি দফতরে চলছে এ বৈঠক।    

সোমবার সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে আমদানি রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। 

পেট্রাপোল বন্দরের এলপিআই (ল্যান্ড পোর্ট ইন্ডিয়া) ম্যানেজার কর্তৃক নানা ধরনের হয়রানির প্রতিবাদে এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পেট্রাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন, যাত্রীবাহী পরিবহন সমিতিসহ বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠন।

পেট্রাপোল বন্দরের স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র জানান, কোভিড-১৯ এর কারণে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে ২৪ ঘণ্টায় ৭০০ থেকে ৭৫০ পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে রফতানি হতো। করোনার কারণে এখন মাত্র সাড়ে ৩০০ ট্রাক পণ্য রফতানি হচ্ছে। এরপর নতুন এলপিআই (ল্যান্ড পোর্ট ইন্ডিয়া) ম্যানেজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোন কথা না বলে বন্দর এলাকায় প্রবেশের ওপর নতুন নতুন আইন তৈরি করে বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। নতুন এলপিআই (ল্যান্ড পোর্ট ইন্ডিয়া) ম্যানেজার বিএসএফকে কাজে লাগিয়ে পরিবহনকর্মীদের বন্দর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিবহন কাজে জড়িত কর্মীদের আইসিপিতে প্রবেশের মুখে বিএসএফ-এর বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, ইউনিক কার্ড ছাড়া কোন পরিবহনকর্মীকে আইসিপি ও বন্দর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বন্দর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারায় আমদানি রফতানি কাজে জড়িতদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এসব হয়রানির প্রতিবাদে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হলেও এলপিআই (ল্যান্ড পোর্ট ইন্ডিয়া) ম্যানেজার তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। আমদানি-রফতানি কাজে বন্দর অভ্যন্তরে প্রবেশসহ নানা হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। ধর্মঘট থাকায় সোমবার সকাল থেকে বেনাপোল পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ভারতে ধর্মঘটের কারণে ওপারে (ভারত সীমান্তে) কয়েক শত পণ্যবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, প্রতিদিন পণ্যবোঝাই ট্রাকের বহর বাড়তে শুরু করেছে। এ সমস্ত ট্রাকের ভাড়ার ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের। ফলে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানিকারকরা।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার আব্দুর রশীদ মিয়া জানান, এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলে প্রতিদিন সরকার রাজস্ব আদায় থেকে সাড়ে বাইশ কোটি টাকা বঞ্চিত হয়।

বেনাপোল বন্দরের ডেপুটি পরিচালক মামুন তরফদার বলেন, ভারতের পেট্রপোল বন্দরে ধর্মঘটের কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। ওপারে এলপি (ল্যান্ড পোর্ট ইন্ডিয়া) ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ও ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন আন্দোলন করছে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে লোড আনলোড প্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে চলছে।’

ইত্তেফাক/এএএম