মাত্র কিছুদিন আগেই একটি লাইভ অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য অভিনেতা নির্মাতা আফজাল হোসেন বলেছিলেন, ‘গুণী মানুষদের মরণোত্তর সম্মাননা দিয়ে লাভটা কী? মৃত্যুর পরেই আমরা বলা শুরু করি বড় ভালো লোক ছিলেন। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়-এসব বলে ঐ মানুষটিকে কী কোনো আনন্দ দিতে পারি আমরা?’ তার মাস কয়েক পরেই আফজাল হোসেনের এই একুশে পদক প্রাপ্তি যেন যোগ্য ব্যক্তির হাতে স্বীকৃতি প্রদান।
একুশে পদক প্রাপ্তিতে সারাদেশ থেকেই অভিনন্দন বার্তায় সিক্ত হয়েছেন গতকাল। এ প্রসঙ্গে আফজাল হোসেনকে ফোন করতেই একগাল হাসি নিয়ে বললেন, ‘সকলেই আমার অনুভূতি জানতে চাচ্ছে। আমি ভাবছি, এ সময়ে অনুভূতি বলা কী যায়? প্রকাশ করা কী সম্ভব? আমি, আমরা তো কোনো প্রাপ্তির জন্য কাজ করি না। আমি যেমন জীবনকে নানাভাবেই বিস্তৃত করেছি। জীবনকে সবসময় সুন্দরভাবেই লালন করার চেষ্টা করেছি। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের এসব উপহার অবশ্যই স্বপ্নকে আরো বিস্তৃত করে।’ উল্লেখ্য, এদেশে একাধিক মডেল-অভিনেত্রী আফজাল হোসেনের নির্মাণে পেয়েছেন তারকাখ্যাতি। নিজের এমন স্বীকৃতিতে অভিনন্দনের বন্যা যেন বয়ে গেছে। শুভেচ্ছাবার্তার তালিকা প্রসঙ্গে আফজাল বলেন, ‘হঠাৎ করেই বিরামহীনভাবে সেল ফোনের রিং বাজতে শুরু করলো। ভালোবাসা আর শুভেচ্ছা শুনতে কার না ভালো লাগে।’
আফজাল হোসেন তার দীর্ঘজীবনে অভিনয় ও নির্মাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তবে নিজের একটি একক চিত্রপ্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছে তার। বর্তমানে ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ নামের একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। নিজের আগামী কাজ প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে তো মাস বা বছরব্যাপী কোনো পরিকল্পনা থাকে না বা করতেও চাই না। তবে যাই করি, তাতে নিষ্ঠা রাখার চেষ্টা করি। নিজের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে এটুকু বলতে পারি, অর্থ কখনো আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।’
দেশবরেণ্য এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে একুশে পদক প্রাপ্তিতে ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে অভিনন্দন।
(উল্লেখ্য, শিল্পকলার বিভিন্ন শ্রেণিতে একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী ব্যক্তিত্বদের আলাপচারিতা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পাবে।)
