সড়কের উন্নয়নকাজে খাল ভরাট 

সরাইলে বোরো চাষে অনিশ্চয়তা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৯

আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন মহাসড়কের উন্নয়নকাজ চলছে গত দুই বছর ধরে। এই কাজের জন্য মহাসড়কের পাশের খালটি ভরাট করা হয়েছে। খাল না থাকায় এখনো আশুগঞ্জ পলাশ অ্যাগ্রো ইরিগেশন সেচ প্রকল্পের (সবুজ প্রকল্প) পানি ছাড়া সম্ভব হয়নি। এতে সরাইল উপজেলার সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানের চাষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে আখাউড়া পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৬৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নতকরণের কাজ চলছে গত দুই বছর ধরে। এ কাজের জন্য আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার অংশের খাল ভরাট হয়ে গেছে। এতে এখনো আশুগঞ্জ সবুজ প্রকল্পের পানি ছাড়া সম্ভব হয়নি। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের শুরুতে ঐ প্রকল্পের পানি ছাড়া হতো। এই পানি মহাসড়কের পাশের খাল দিয়ে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়ায় জাফর খালে প্রবাহিত হতো। এরপর জাফর খালের সঙ্গে যুক্ত খাল হয়ে সরাইল উপজেলার সদর, পানিশ্বর, কালীকচ্ছ, নোয়াগাঁও, চুন্টা ও শাহবাজপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোর সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হতো। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উপজেলার প্রায় ২০ হাজার কৃষক।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পানিশ্বর ইউনিয়নের পানিশ্বর, বিটঘর, বেড়তলা, নাইলা, সদর উপজেলার কুট্টাপাড়া, সৈয়দটুলা, নিজসরাইল, উচারিয়াপাড়া, চুন্টা ইউনিয়নের রসুলপুর, চুন্টা, বড়বল্লা, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ, বারিউড়া, শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর ও দীঘিরপাড় এলাকার কোনো জমিতে পানি পৌঁছায়নি। এসব এলাকায় এখনো বোরো ধান রোপণ করা হয়নি। একদিকে জমিগুলো পতিত পড়ে আছে, অন্যদিকে বীজতলার চারা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। কৃষকেরা পানির আশায় শুধু অপেক্ষা করছেন। উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আফতাব মিয়া বলেন, ‘সেচ প্রকল্পের অধিন আমার তিনটি সেচ পাম্প রয়েছে। খালে এখনো পানি আসেনি। এলাকার শতাধিক একর জমি নিয়ে বিপাকে পড়েছি।’ সরাইল উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি দেবদাস সিংহ রায় বলেন, ‘আমরাও চাই মহাসড়ক ফোর লেন হোক। কিন্তু এই প্রকল্পের অধীন হাজার হাজার হেক্টর জমির পানি প্রবাহের জন্য বিকল্পের ব্যবস্থা না করেই খাল ভরাট করে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে দেশের প্রাণ কৃষকেরা আজ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হক বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে চারা রোপণ করতে না পারলে জীবতলা নষ্ট হয়ে যাবে। এত অল্প সময়ের মধ্যে কৃষকদের পক্ষে নলকূপ বসানো সম্ভব নয়। তাই সবুজ প্রকল্পের পানিই ভরসা। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল হক বলেন, বিএডিসি বলছে পানি ছাড়বে, কিন্তু কবে ছাড়বে তা বলতে পারছে না। বিএডিসি পানি ছাড়তে পারবে না এ কথা আগে বললে কৃষকেরা হয়তো অন্য ব্যবস্থা করতে পারতেন। বিএডিসির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রুবায়েত ফয়সাল আল মাসুম বলেন, মহাসড়কের সম্প্রসারণকাজের ফলে খাল ভরাট হয়ে গেছে। তারা (সওজ কতৃ‌র্পক্ষ) কয়েক দিনের মধ্যে খালের অংশবিশেষ খালি করে দেবে বলে কথা দিয়েছেন। আশা করি আগামী ১০ দিনের মধ্যে স্বল্প পরিসরে পানি ছাড়া সম্ভব হবে। এ বছর পুরো এলাকায় আগের মতো বোরা চাষ সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে আগামী বছর এই সমস্যা থাকবে না। 

ইত্তেফাক/ আরাফাত