বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যেভাবে নিজেকে উড়িয়ে দিলো আইএস প্রধান

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:০৬

সিরিয়ার উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত হামলায় ইসলামিস্ট স্টেট (আইএস)-এর প্রধান আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কোরাইশি নিহত হয়েছে। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে মার্কিন হামলার সময় নিজেকে সে উড়িয়ে দেয় বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক সীমান্তের কাছে সিরিয়ার একটি শহরে একটি বাড়ির ওপর দুই ঘণ্টার বেশি উড়ছিল মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারগুলো। বাড়ির চারপাশের এলাকা মার্কিন সেনা ঘিরে রেখেছিল। অনেক দূরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বসে অপারেশনের ওপর নজর রাখছিলেন জো বাইডেন। ওই বাড়িতেই সপরিবারে ছিল আইএস প্রধান আল-কোরাইশি। কিন্তু মার্কিন বাহিনী কিছু করার আগেই আল-কোরাইশি একটি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ করে। বাড়ির বেশ কিছুটা অংশ উড়ে যায়। আল-কোরাইশি সহ মোট ১৩ জন মারা যায়। এর মধ্যে ছয়জন নারী ও চারজন শিশু।

পেন্টাগনের মিডিয়া সচিব জন কিরবির দাবি, 'যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বুধবার মাঝরাতে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়েছিল। জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়দার বিরুদ্ধে মূলত এই অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে আইএস প্রধান মারা গেছে।'

তবে মার্কিন এই অভিযানে সেখানে শহরের বাসিন্দাদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছে। মার্কিন সেনা হেলিকপ্টারে করে চূড়ান্ত আঘাত হানার আগে বাসিন্দাদের চলে যেতে বলে। লাউডস্পিকার ব্যবহার করে বলা হয়, বাসিন্দারা যেন দ্রুত ঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যান। 

এক নারী রয়টার্সকে বলেছেন, 'ঘোষণা হচ্ছিল, মার্কিন জোট চারপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে। পুরুষ, নারী, বাচ্চারা হাত তুলুন। আপনারা নিরাপদ থাকবেন।'

জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি এই অপারেশনের খবর বাইডেনকে জানাচ্ছিলেন। তিনি বলেছেন, যে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা আত্মঘাতী বিস্ফোরণের থেকে অনেক বেশি জোরালো। বাড়ির তিনতলা ভেঙে পড়েছে। আল-কোরাইশি ও অন্যদের দেহ ছিটকে বাইরে এসে পড়েছে। 

ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, দুইতলায় মার্কিন বাহিনী যখন পৌঁছায়, তখন আল-কোরাইশির এক সহযোগী ও তার স্ত্রী গুলি চালাতে থাকে। তারা মার্কিন সেনার গুলিতে মারা যায়। সেখানে একটি বাচ্চার দেহ মেলে। 

মার্কিন সেনার টার্গেট ছিল তিনতলায় থাকা আল-কোরাইশি। এই অপারেশন গত ডিসেম্বর থেকে পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হয়ে যায়, ওখানে আল-কোরাইশি আছে। গত মঙ্গলবার বাইডেন এই অভিযানের সবুজ সংকেত দেন। 

ওভাল অফিসে প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন ও জেনারেল ম্যাকেঞ্জি জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি অভিযানে সবুজ সংকেত দেন। অভিযান যখন চলছে, তখন বাইডেন ও কমলা হ্যারিসকে সর্বশেষ তথ্য জানাতে থাকেন অস্টিন ও ম্যাকেঞ্জি।

একটা সময়ে একটি হেলিকপ্টারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সেই হেলিকপ্টারকে ধ্বংস করে ফেলা হয়।

অভিযানের পর বাইডেন বিবৃতিতে বলেছেন, 'আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও সাহসিকতার কারণে আইএস নেতা আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কোরাইশিকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযান শেষে সব মার্কিনিরা নিরাপদে ফিরেছেন।'  

বিবৃতিতে বাইডেন আরও বলেন, আমার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমে সফলভাবে সন্ত্রাসদমন অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও আমাদের মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং বিশ্বকে একটি নিরাপদ স্থানে হিসেবে গড়ে তোলা। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, ডয়েচে ভেলে। 

ইত্তেফাক/এসআর