উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের মানিক পাঠান গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে সোনাইছড়ি খাল খনন ও জামির হোসেন সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীদের পৃথক হামলায় এ পর্যন্ত ১২ জন শ্রমিক ও গ্রামবাসী আহত হয়েছে।
এই অভিযোগে বাঁশখালী থানা ও আদালতে চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হলেও সন্ত্রাসীদের দাপট থামছে না। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ পর্যন্ত পুলিশ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে। আট আসামি আদালতে আত্মসর্মপণ করে জামিন পেয়ে এলাকায় হুমকি দিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৪ কিলোমিটার সোনাইছড়ি খাল খননের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র আওতায় দুই ঠিকাদার পৃথকভাবে ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পান। এছাড়া ঐ খালের পাশে জামির হোসেন সড়ক পিচ ঢালাই করার জন্য আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ পান আরেক ঠিকাদার। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কাথরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এসব উন্নয়ন কাজের তদারকিতে ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন বলে এলাকায় প্রচার আছে। এসব উন্নয়ন কাজে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন অভিযোগে স্থানীয় কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। গত ১৬ জানুয়ারি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রাইভেটকারে উপজেলা সদরে যাবার সময় কালীপুর এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাকে ঘেরাও করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালায়। এ খবরে মানিক পাঠান থেকে লোকজন যেয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়। আহত চার শ্রমিক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় কাতরাচ্ছে। এর পর গত ২২ জানুয়ারি খাল খননে নিয়োজিত শ্রমিক আহমদ ছফা ২৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। অপরদিকে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গত ২৩ জানুয়ারি বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এভাবে চাঁদা চাইবে এবং আমার ও শ্রমিকদের ওপর হামলা করবে তা কল্পনাও করিনি। এখন সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হুমকিতে ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
খাল খননে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতিক অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক মো. হামিদুল্লাহ বলেন, ‘বন্দুকের গুলির সামনে গিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে কাজ করব। তাই কাজ বন্ধ করে রেখেছি।’
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। কয়েক জন আদালতে আত্মসর্মপণ করে জামিনে আছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
