রাণীনগরে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত নারীরা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:৪৫

শীত মৌসুমে রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারীরা খাবারে বাড়তি স্বাদ আনতে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার খট্টেশ্বর রাণীনগর, চকাদিন, চকমনু, রনসিংগারসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘরে এ চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, শত শত নারী কুমড়োর বড়ি তৈরির কাজে জড়িত রয়েছেন। শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে কুমড়োর বড়ি তৈরির ব্যস্ততা বেড়ে যায় তাদের মধ্যে। বর্ষাকাল বাদে বাকি মাসগুলোতে কমবেশি কুমড়ো বড়ি তৈরি করা হয়। আশ্বিন মাস থেকে ফ্লাগুন এই ছয় মাস কুমড়োর বড়ি তৈরির ধুম পড়ে। শীতকাল কুমড়োর বড়ি তৈরির ভরা মৌসুম। এ সময় গ্রামের প্রতিটা বাড়িতে কমবেশি কুমড়োর বড়ি তৈরি করা হয়। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বাজারে বিক্রি করেন। কুমড়ো বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ মাসকলাইয়ের ডাল আর চালকুমড়া। এর সঙ্গে সামান্য মশলা।

অনেক বছর ধরে এ কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন রাণীনগর উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের প্রায় ৩০-৪০টি পরিবার। ঐ গ্রামের নারী কারিগর শ্রীমতি বাসন্তী বলেন, আগে কুমড়োর বড়ি ব্যবসায়ী পরিবারগুলো প্রথম অবস্থায় তেমন সচ্ছল ছিল না। এখন অনেকেই কুমড়োর বড়ির ব্যবসা করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ৫ কেজি কুমড়োর সঙ্গে দুই কেজি মাষকলাইয়ের কুমড়ো বড়ি ভালো তৈরি হয়। উপজেলার কুমড়োর বড়ির ব্যবসায়ী গৌড় চন্দ ও উজ্জ্বল চন্দ্র বলেন, এখানকার কুমড়ো বড়ি খুব সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বিশেষ করে ঢাকায় এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

তিনি আরও জানান, এটি বছর জুড়ে তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু শীতকালে এর কদর বেশি হয়। রংপুর থেকে কুমড়োর বড়ি পাইকারি নিতে আসা শহীদুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের তৈরি কুমড়োর বড়ির স্বাদ অন্য রকম। এই বড়িগুলো আমাদের এলাকায় তৈরি হয় না। তাই এই অঞ্চল থেকে কুমড়োর বড়ি পাইকারি কিনে নিয়ে গিয়ে রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করি। এতে করে লাভ ভালোই হয়। এছাড়া দেশের যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলাতেও চালান হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, প্রতিটি অঞ্চলের বিশেষ বিশেষ কিছু ঐতিহ্য থাকে। তেমনি কুমড়ো বড়ি রাণীনগরের একটি বিশেষ ঐতিহ্য। শীতকালের একটি বিশেষ খাবারের উপকরণ। শীত মৌসুমে গ্রামের নারীরা কুমড়োর বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন। গ্রামীণ নারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এর সঙ্গে জড়িতদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমআর