চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাঠে মাঠে বিস্তর এলাকা জুড়ে সরিষার ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। হলুদ ফুলে ভরে আছে জমিগুলো। ফুলের মৌ মৌ গন্ধ সুবাস ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়। আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ সকল প্রকৃতির প্রেমিককে। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে, ফলন ভাল হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ আজাদ হোসেন বলেন, এ বছর প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ মেট্রিকটন। সেই সাথে আমাদের প্রায় ৭০/৭৫ টি সরিষার প্রদর্শনী রয়েছে।
উপজেলার বলিয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে আমার প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার ফলন করেছি। আমারমত আরও অনেক কৃষক সরিষার ফলন করেছে।
পাতানিশ গ্রামের কৃষক ফজলুল হক, চাঁন মিয়া, কবির মিজিও প্রায় শতাধিক হেক্টর জমিতে সরিষার ফলন করেছে। এবারের শীত মৌসুমে ভালো ফুল ফুটেছে বলে ভালো ফলনও আশা করা যায়। সরিষার ফুলে ফুলে হলুদ বর্ণের বর্ণিল জমি গুলোতে আশে পাশে দুর দূরান্ত থেকে স্কুল কলেজের সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকরা বেড়াতে আসেন, ছবি তোলেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরিষার ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার জন্য অনেক তরুণ-তরুণীরা নিজেদের ক্যামেরা ও ভিডিও মাধ্যমে নিজের ছবির সাথে সরিষার ফুলের ছবি তুলছেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম জানান, উপজেলার উঁচু জমির পাশাপাশি পলি অঞ্চলে বন্যার পর মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর ব্যাপক হারে সরিষার উৎপাদন সম্ভব। সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে । প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে ও কোনো রকম রোগ বালাই না ধরলে, সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সরকারের সরিষা প্রণোদনা থাকায় সরিষা আবাদে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে অনেকটাই। সেই সাথে আমরা একাধিক প্রদর্শনী করেছি। সরিষার আবাদ উঠার পর কিছু জমিতে বিলম্বে ধান রোপণের সম্ভাবনা রয়েছে।
