মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবিতে 'ভর্তিবঞ্চিত' সাইফুলের ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা!

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৫৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায়  ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজিতে (আইআইটি) দশম স্থান অধিকার করেও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারেননি সাইফুল ইসলাম। কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমনটাই দাবি করেছেন অনেকে। তবে ভর্তি হতে না পারার পেছনে সাইফুলের আর্থিক সমস্যাই প্রধান কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সাইফুলের গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার সদর উপজেলায়। তার বাবা ইলিয়াছ খান পেশায় কৃষক। গত ১২ নভেম্বর জাবির আইআইটি'র ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় সাইফুল দশম স্থান অধিকার করেন। আইআইটিতে প্রতি আসনের বিপরীতে ৪১১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য মতে, প্রথম মেধা তালিকা থেকে ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান করে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তারিখ ছিলো ৭ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এছাড়া সকল কাগজপত্র জমাসহ ভর্তি নিশ্চিত করার সর্বশেষ তারিখ ছিলো ১৫ ডিসেম্বর।

তবে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্ধারিত তারিখের মধ্যে টাকার ব্যবস্থা করতে না পারায় ভর্তি হতে পারেনি বলে দাবি করছেন সাইফুল। এছাড়া স্মার্টফোন না থাকার কারণে ভর্তির নির্ধারিত তারিখ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি। পরে ১৪ ডিসেম্বর ভর্তির তারিখ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরেই আইআইটি'র পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করে সাইফুল। এ সময় ভর্তির তারিখ শেষ হয়ে গেছে বলে সাইফুলকে জানান আইআইটি'র পরিচালক।

তবে ভর্তির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে ভর্তির অনুরোধ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন সাইফুল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান বরাবরও আবেদন করেন তিনি। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের আপত্তির মুখে সেটি বাতিল হয়।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাইফুল কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে (সিএসই) ভর্তি আছেন। তবে তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি থাকার বিষয়টি ইত্তেফাক অনলাইনের কাছে অস্বীকার করেন। যদিও অন্য গণমাধ্যমে সাইফুল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারনে আমি নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। কিন্তু আমি আমার ভর্তি নিশ্চিতের জন্য নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আইআইটিতে যোগাযোগ করি। আমাকে উপাচার্য বরাবর দরখাস্ত দিতে বলা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দরখাস্ত দিয়েছিলাম। তবে আমাকে ভর্তি নেওয়া সম্ভব না বলে জানিয়েছেন। আমি দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে এখানে চান্স পাই।

তিনি আরও বলেন, আমার জন্য কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপাচার্যের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তবে আমি তাদের কাছে যাইনি, বরং বিষয়টি জানতে পেরে উনারাই আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। তাদের সুপারিশে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাতের জন্য দুইবার ক্যাম্পাসে আসি। তবে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারিনি।

জাবির শরীয়তপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি স্বর্ণা সুলতানা ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, সাইফুলের জাবিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি জানার পর অনেক বার যোগাযোগ করা হয়েছিল। ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যগুলো তার মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। তবে সে উত্তর দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, 'আমরা জানতে পেরেছি সাইফুলের বাবা একটি দোকান চালাতেন। তাদের আর্থিক সমস্যা থাকতেই পারে। তবে সে কারণে ভর্তি হতে পারছে না, এ রকম কোন ঘটনা আমরা জনতে পারিনি। আমরা জেনেছি, সাইফুল কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগে ভর্তি আছেন।'

এ বিষয়ে আইআইটি'র পরিচালক অধ্যাপক শামীম কায়সার ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, 'অনলাইনে ভর্তির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছেলেটি টাকা জমা দিতে পারেননি বলে আমাদেরকে অবহিত করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ায় আমাদের কিছু করার ছিলো না। আমি পরবর্তীতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বরাবর আবেদন করতে বলি। সে আবদেন করে, কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে আপত্তি তোলেন। তাকে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার নিয়ম নেই বলে জানান তারা।'

তিনি বলেন, 'আমরা সাইফুলকে ভর্তির সুযোগ দিতে পারছিনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলাম। পরে মন্ত্রীসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা আমাকে ফোন করে সাইফুলকে ভর্তির সুযোগ দিতে অনুরোধ করেন, তবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভর্তির সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিই।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. আবু হাসান বলেন, 'সাইফুল যখন যোগাযোগ করেছে তখন দ্বিতীয় মেধা তালিকার ফলাফলও প্রকাশ হয়ে গেছে। সে যদি যথাসময়ে যোগাযোগ করত তাহলে এমন সমস্যা হতো না। প্রতিবছর এ রকম বহু অভিযোগ আসে। এখন তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া, আর কিছু করার নেই।'

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা : নম্বরের জটিল সমীকরণে আটকে যায় পরীক্ষার্থীরা

যেভাবে জানা যাবে ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের রেজাল্ট 

দুুপুরে ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ  

ঢাবি ‘গ’ ইউনিটে ভর্তির ফল প্রকাশ, পাসের হার ১৪.৩০ শতাংশ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জাবির পরিসংখ্যান বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নতুন কমিটি ঘোষণা

বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করে বক্তব্য দেওয়া জাবি শিক্ষক ক্ষমা চেয়েছেন

জাবিতে রেজিস্ট্রার নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা অনুসরণের দাবি