পানি যাওয়ার সুযোগ নেই তবুও কালভার্ট নির্মাণ, ব্যয় ৩৫ লাখ টাকা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৭

নাগেশ্বরীতে কালভার্ট নির্মাণের আগেই খাল ভরাট করে নির্মাণ করা হয় বাড়ি। বন্ধ হয়ে যায় পানি প্রবাহ। তারপরও সেখানেই ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে কালভার্টটি। এই কালভার্ট মানুষের কোনো কাজে আসছে না, ভবিষ্যতে আসবে এমন কোনো সম্ভবনাও দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, ২০১৭ সালে ঐ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লুছনি গ্রামের কচাকাটা-মুড়িয়ারহাট সড়কে একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণে নকশা প্রস্তুত করা হয়। ২০১৮ সালে সেটির টেন্ডার হয়। নকশা করার সময় ঐ জায়গায় কোনো ঘর-বাড়ি ছিল না। উপজেলা প্রকৌশল অফিস জানায়, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দে ৯ মিটার (২৭ ফুট) দৈর্ঘ্যের ৪ অনুপাত ৪ ধরনের এ বক্স কালভার্টটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। গত বছর (২০২১) জুন মাসে এর নির্মাণ কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জুনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়।

এদিকে নির্মাণ কাজ শুরু আগেই ঐ কালভার্টের উত্তর দিকের জমিতে মাটি ভরাট করে বাড়ি করেন ফজর আলী, নাসির উদ্দিন ও লালচান মিয়া। স্থানীয় আব্দুর রহিম ও পনির মিয়া জানান, তখন আমরা কালভার্টটি পূর্ব দিকে সরিয়ে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা শোনেন নি। সেখানেই কালভার্ট নির্মাণ করে ঠিকাদার। সে সময় তারা পানি নিষ্কাশনের জন্য পাশের জমি দিয়ে সরু একটি নালা কালভার্টটির মুখে সংযোগ দেয়। ইতিমধ্যে ঐ জমির মালিক আব্দুল খালেক বাড়ি করার জন্য সেই নালাও বন্ধ করে দিয়ে মাটি ফেলে জমি ভরাট করেছেন। ফলে সেখান দিয়ে এক ফোটা পানি গড়ানোর উপায় নেই।

সাবেক ইউপি সদস্য আলমাস উদ্দিন জানান, এই কালভার্ট জনগণের কোনো কাজে লাগবে না। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সরকারের টাকা নষ্ট হয়েছে। ফজর আলী জানান, ২০১৭ সালে ভয়াবহ বন্যায় তাদের ঘর-বাড়ি দুধকুমারে বিলীন হলে তারা এই জমিতে বাড়ি করেন। তারপর হঠাত একদিন কালভার্টের কাজ শুরু হয়। তখন সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেও কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে তিনি নাগেশ্বরীতে যোগদান করার আগেই কালভার্টটির ভিতের কাজ শেষ হয়। ফলে সেখানেই কাজ শেষ করতে হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ওয়সিম আতাহার জানান, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খাল ভরাট করে কালভার্টটির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার বন্যায় ঐ পরিবারগুলোকেই ভোগান্তিতে পড়তে হবে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/ আরাফাত