হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। এসব যানবাহনের চালকসহ অধিকাংশ গাড়িরই নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। ফলে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই পথে চলাচলকারীদের।
সরজমিনে দেখা যায়, লোহাগাড়া সদরের বটতলী মোটর স্টেশনের আইস পার্ক ও এমদাদিয়া মার্কেটের সামনে মহাসড়কে গড়ে উঠেছে অবৈধ লেগুনার স্টেশন। এসব গাড়ি আইস পার্ক থেকে চকরিয়া ও এমদাদিয়া মার্কেট থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করেছে। তারা জানায়, দোহাজারী হাইওয়ে থানার আওতাধীন মহাসড়ক ও উপসড়কে লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা মিলে প্রতিদিন ছয় শতাধিক এসব যানবাহন চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ও নামধারী ব্যক্তি টোকেন বা অন্যান্য মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনবিহীন লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়কে চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন সিএনজি অটোরিকশাচালক জানান, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশার জন্য এককালীন টাকা দিতে হয়। কাকে টাকা দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন। দোহাজারী হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, দোহাজারী হাইওয়ের সীমানা চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকা। হাইকোর্টের নির্দেশনায় সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা, ভটভটি, ইজিবাইকসহ থ্রি-হুইলার যানবাহন চলাচল দণ্ডনীয় অপরাধ। উক্ত এলাকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আইন ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন কম করে হলেও ২০০ থেকে ৩০০ সিএনজি অটোরিকশা চলাচলা করে।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের লোহাগাড়া শাখার সভাপতি মোজাহিদ হোসাইন সাগর জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা অবাধে চলাচল করছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। তিনি দ্রুত মহাসড়কে এসব অবৈধ যান চলাচল বন্ধের দাবি জানান।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা, ভটভটি ও ইজিবাইকসহ থ্রি-হুইলার চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স।’ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশসহ চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় নিষিদ্ধ গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। গত দুই মাসে অভিযান চালিয়ে ২০টি সিএনজি অটোরিকশা জব্ধ করেছি। গত মাসে মামলা হয়েছে ৩০০টি। এর মধ্যে থ্রি-হুইলার-ইজিবাইকের নামে মামলা ২০০টি এবং অন্যান্য মামলা ১০০টি।’ তিনি আরো জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলবে না। মহাসড়কে অবৈধ যানবাহনকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। মহাসড়কে থ্রি-হুইলারসহ অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সব সময় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
