‘সুবর্ণ জয়ন্তীর অঙ্গীকার ডিজিটাল গ্রন্থাগার’ স্লোগানে সারাদেশে পালিত হলো জাতীয় গণগ্রন্থাগার দিবস। শনিবার সকালে কেন্দ্রীয়ভাবে শাহবাগের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার চত্বরে বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান।
পরে শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সভার মুখ্য আলোচক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, গ্রন্থাগার যত সমৃদ্ধ হবে দেশ তত এগিয়ে যাবে। জঙ্গিবাদ, হানাহানি দূর করতে গ্রন্থাগার কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। সেজন্য উপজেলা পর্যায়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রন্থই মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। মানুষের, জাতির এবং রাষ্ট্রের গড়ে ওঠার পেছনে বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংস্কৃতি মনস্ক জাতি গঠনে বইয়ের বিকল্প নেই। গ্রন্থাগার হচ্ছে জ্ঞানের ভান্ডার। তরুণ প্রজন্মকে লাইব্রেরি মুখী করে তুলতে হবে। এতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংস্কৃতি মনস্ক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।
তরুণ প্রজন্মকে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খারাপ প্রভাব কাটিয়ে বইমুখি করার জন্য দেশজুড়ে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি বলে মত দেন তিনি।
কে এম খালিদ বলেন, লাইব্রেরীমনস্ক জাতি গঠনে দেশের লাইব্রেরি গুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারকে আধুনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ব্রিটিশ কাউন্সিল, বিল গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দেশজুড়ে বই পাঠের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে কার্যক্রম পরিচালতি হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীতে যে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছি তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রন্থ ও গ্রন্থাগারগুলোকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্মের সামনে ডিজিটাল বই তুলে দিতে হবে। সেসঙ্গে লাইব্রেরিমুখী করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম পড়াশোনা করে, গ্রন্থাগারও ব্যবহার করে। কিন্তু এসব পড়াশোনার প্রধান লক্ষ্য চাকরি পাওয়া। লাইব্রেরিকে বিশ্বের জ্ঞানের আধার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। এ বাধা কাটাতে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে বেশি জরুরি একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। মানুষের মনের অন্ধকার দুর করে গ্রন্থপাঠ। চাকরিমুখী পড়াশোনার বাইরে জ্ঞান ও মুক্তমনের মানুষ হয়ে গড়ে ওঠা বেশি জরুরি।
সিমিন হোসেন রিমি বলেন, আগে স্কুলের লাইব্রেরী গুলো গতিশীল ছিল। এখন তা বন্ধই থাকে। দেশের স্কুলের লাইব্রেরীগুলো যাতে গতিশীল হয়ে ওঠে সে বিষয়ে সরকার নতুন করে কাজ শুরু করেছে।
মো. আবুল মনসুর বলেন, সংস্কৃতি শুধু শিল্পকলার চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি দেশ ও জাতিকে গড়ে তুলতে সমৃদ্ধ রুচিশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সংস্কৃতি প্রধান মাধ্যম।
আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গণগ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে বইকে যুগোপযোগী করে মানুষের সামনে তুলে ধরতে আমরা নানা আয়োজন নিয়ে দেশে বই পড়ার পরিবেশ সৃষ্টিতে সচেষ্ট রয়েছি।
আলোচনা শেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
