হারিয়ে যাচ্ছে হরিতাল পাখি

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২১:৪৯

গ্রামীণ পথঘাট, প্রাচীন বট-পাকুড় গাছ কমে যাওয়ায় খাদ্যের অভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে হরিতাল পাখির সংখ্যা। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় সম্প্রতি এক বট গাছে দেখা মিললো হরিতালের। প্রিয় খাবার “বটফল” খেতে গাছের ডালে ব্যস্ত।

কবুতর প্রজাতির হরিতাল সাধারণত লম্বায় ২৫ থেকে ৩৩ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এদের দেহের ওপরের অংশের রঙ হালকা ধূসর। ঘাড়ে লালচে ছোপ ও ডানায় সবুজাভ কালোর ওপর হলদে টান রয়েছে। বুকের নিচের অংশ, পেট ও তলপেট ধূসর। কাঁধে এক ফালি হালকা বেগুনী রঙ। লেজের ওপরের অংশের গোড়ায় জলপাই-হলদে বলয় থাকে। চোখের আইরিশের ভেতরের বলয়টি নীল ও বাইরেরটি গোলাপি। ঠোঁটের রঙ হালকা সবুজাভ। পা ও পায়ের আঙুল চকচকে হলুদ।

মানিকগঞ্জ পাখি ও পরিবেশ লালন করি (পালক)-এর সদস্য সচিব বিমল চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের দেশে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় হলদে পা হরিয়াল প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। মানবসম্পদের প্রয়োজনে বটগাছ, পাকুড়গাছ, খেজুর গাছ ও নাকুড়গাছ কেটে ফেলার কারণে তাদের আবাসস্থল হারিয়ে যাচ্ছে। গাছ সংরক্ষণ ও গণসচেতনতা ছাড়া এসব প্রজাতির পাখি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না।

ঘিওর উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসাইন বলেন, হরিতাল পাখি মূলত আর্দ্র পাতাঝরা বন, কৃষিজমি, বাগান প্রভৃতি এলাকায়, যেখানে ছোট ছোট নরম ফলের গাছ, যেমন-বট, পাকুড়, খোকসা, জগডুমুর, আম, বকুল, বউলা গোটা এজাতীয় গাছে বাস করে। কিন্তু বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে এদের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। এরা সকাল ও সূর্যাস্তের সময় খাদ্য সংগ্রহে বেশ তৎপর থাকে।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি