মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলা ভাষা নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০০:৫৮

তারুণ্যের চেতনায় সদাজাগ্রত থাকুক একুশ বছর ঘুরে আবারো চলে এলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। রক্ত দিয়ে ভাষা রক্ষা করার এমন নজির ইতিহাসে বিরল। তাই এটি একদিকে যেমন শোকের, অন্যদিকে গৌরবের। তাই তো বাঙালি জাতি নানা আয়োজনের মাধ্যমে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ভালোবাসা জানায় ভাষা শহিদদের প্রতি। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানে গানে মুখর হবে দেশের প্রতিটি অঙ্গন। বাংলা ভাষার প্রতিটি অক্ষর যেন ’৫২-এর প্রতিটি ভাষা শহিদের কথা বলে। তাদের সাহস, দৃঢ়তা আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে অন্যায়ের সামনে রুখে দাঁড়াতে হয়। ভাষা আন্দোলন ছিল শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষকাল। তাই একে বলা হয় চেতনার মাস। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার মাস। ’৫২-এর তরুণেরা যেভাবে ভাষা রক্ষায় এগিয়ে এসেছে এই প্রজন্মের তরুণদের তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মাস। কিন্তু আসলেই কী তারা শিক্ষা নিতে পারছে? এত কষ্টের ফলে অর্জিত ভাষার মর্যাদা কী আদৌ রক্ষিত হচ্ছে? যেখানে উচ্চতর পড়াশোনার বেশির ভাগই করা হয় ইংরেজিতে। এছাড়াও আমাদের সংস্কৃতিতে রয়েছে ব্যাপক আকারে ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রভাব, যা ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে বাংলা ভাষার মূল্য। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। 
রাইসা বিনতে করিম, শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

রক্তে কেনা মাতৃভাষা ‘বাংলা’ বাঙালির রক্তে কেনা মাতৃভাষা। রক্তের বিনিময়েই হয়েছে বাংলা ভাষার অর্জন। ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হলেও পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যেও বিভিন্ন ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষাভাষী হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে (৩.২৭ শতাংশ) পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার বিরাট ষড়যন্ত্র মাথা নাড়া দিয়ে ওঠে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ও ২৪ মার্চ কার্জন হলে অনুষ্ঠিত এক সমাবর্তনে ‘উর্দুকে’ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এর বিরোধিতায় বাঙালির ভাষা আন্দোলন সর্বাত্মক রূপ লাভ করে। আন্দোলনকে দমনের উদ্দেশ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হলে তা ভঙ্গ করে ২১ ফেব্রুয়ারিতে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে উচ্ছ্বসিত হয় রাজপথ। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায় এবং বাংলা ভাষা ও ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা দেন। রক্তে কেনা মাতৃভাষার মান এভাবেই বিশ্বব্যাপী বিস্তার হোক। প্রতিটা বাঙালিরই উচিত বাংলা ভাষার এই মান রক্ষার্থে ভাষার প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া।
মো. জিল্লুর রহমান, শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে চবিতে আনন্দ শোভাযাত্রা 

বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ নিয়ে সিলেট যাচ্ছেন চবির 'সিলেটি' শিক্ষার্থীরা

‘আমরা সাংবাদিক-প্রক্টর খাই না’

চবি সাংবাদিক সমিতির মৌসুমি ফল উৎসব

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

৮০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চবিতে ব্যতিক্রমী বিজ্ঞান মেলা

চিটাগং সায়েন্স কার্নিভাল ৯ জুন

পরিবেশ দিবসে চবি সাংবাদিক সমিতির বৃক্ষরোপণ

আগুনে দগ্ধদের রক্ত দিতে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে চবি শিক্ষার্থীরা