রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার রায়ের উপর হামলা চালিয়েছে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ৮/১০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন হামলা শিকার ওই কর্মকর্তা। এই মামলার প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে মোরশেদ আলম নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া সপ্তম ধাপের অনুষ্ঠিত মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার রায়। ওই ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য প্রার্থী বক প্রতীকের সোবানা বেগমকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ওই ফলাফল প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালগাছ প্রতীকের শাহীনুরী বেগমের সমর্থকরা মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার রায়কে গালিগালাজ ও টানা হেঁচড়াসহ মারপিট করে লাঞ্চিত করেন। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীর পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে পরাজিত প্রার্থী শাহীনুরী বেগম ও তার স্বামী কফিল উদ্দিনসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন হেমন্ত কুমার রায়। বুধবার দুপুরে পরাজিত প্রার্থী শাহীনুরী বেগমের ছেলে মোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার রায় বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা আমার অফিসে এসে ফলাফল পুনর্গণনার দাবি করেন। কিন্তু আমি তো পুনর্গণনা করার কেউ না। তাদের কর্তৃপক্ষের কাছে পুনর্গণনা জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেই। এরপর তারা কোনো কথা না শুনে আমার উপর হামলা চালায়।
মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহামান বলেন, এ ঘটনায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বাদী হয়ে পরাজিত প্রার্থী শাহীনুরী বেগম ও তার স্বামী কফিল উদ্দিনসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযান চালিয়ে পরাজিত প্রার্থীর ছেলে মোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
