ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হিজাব সমর্থনে সংহতি

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২২:০৮

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের একটি স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধের প্রতিবাদে রাজ্যটিতে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ সংহতি সমাবেশের আয়োজন করে।

বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশ করে সংগঠনটি।

সমাবেশে শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভটি অপরাজেয় বাংলায় এসে শেষ হয়। এসময় আন্দোলনকারীরা ‘সলিডারিটি ফ্রম বিডি’, ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস’,‘পোশাকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করো’ ইত্যাদি লিখা সম্বলিত প্ল্যকার্ড প্রদর্শন করেন।

সমাবেশে জয়দেব চন্দ্র রায় নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে হিজাবের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেটি রাষ্ট্রীয়ভাবে করা হচ্ছে। সনাতনধর্মাবলম্বী হিসেবে আমি লজ্জাবোধ করছি। আমি মনে করি বোরখা ভালো জিনিস। আমার মা বা বোন যদি এটি পরতে চায় তাহলে তারা পরতে পারে। যারা এটি করছে তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ আহসান বলেন, কে কোন পোশাক পরবেন এটি তার নিজস্ব রুচিবোধের ব্যাপার। পোশাকের স্বাধীনতা থাকা উচিত। শুধু ভারত নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও নারী শিক্ষার্থীরা পোশাকের কারণে বিভিন্ন কটু কথার শিকার হয়। আমরা বলতে চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও যার যার পছন্দের উপর ভিত্তি করে পোশাক পরার স্বাধীনতা থাকতে হবে। ভবিষ্যতে যদি কোন শিক্ষার্থীকে হিজাব পরার কারণে বাধা দেওয়া হয় বা কটু কথা শুনানো হয় আমরা সেগুলোর ডকুমেন্টশন করবো। আমরা চাই না কেউই হিজাব বা অন্য কোন পোশাক পরার কারণে সমস্যায় পড়ুক।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত তাবাস্সুম বলেন, বোরখাকে মুসলিম আইডেন্টি হিসেবে বিবেচনা করে এটি নিষিদ্ধ করা ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদ ছড়িয়ে দেওয়ার একটা চাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও হিজাব বা বোরখা পরার কারণে যেমন কটুক্তি শুনতে হয় তেমনি টি-শার্ট পরার কারণেও কটু কথা শুনতে হয়। আর ওয়েস্টার্ন পোশাক পরে যারা আসে তারাও নানা রকম বুলিংয়ের শিকার হয়। আমরা বলতে চাই, মেয়েরা কোন পোশাক পরবে বা পরবে না সেটি তাদের নিজস্ব পছন্দের বিষয়। এখানে কারও হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নিব না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আশরেফা তাসনিম বলেন, আমরা বাঙালি। বাঙালি জাতীয়তাবাদ মেনে যেমন আমরা পোশাক পরতে পারি তেমন ধর্মীয় নির্দেশনা মেনে হিজাব বা বোরখা পরতে পারি। এই হিজাব বা বোরখাকে যখন আমরা আফগানি বা তালিবানি পোশাক বা সংস্কৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করবো সেটিই হচ্ছে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা। আমরা অসাম্প্রদায়িকতার নামে এই যে বিদ্ধেষ ছড়িয়ে দিচ্ছি এটাই সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িকতা। যখন আমি বা আমার বান্ধবী স্বাধীনভাবে শাখা-সিঁদুর বা হিজাব বোরখা পরতে পারবে সেটাই অসাম্প্রদায়িকতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সালেহ উদ্দীন সিফাত সঞ্চলনায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ভারতের যে ঘটনা নিয়ে আজকে আমরা সংহতি জানাতে দাঁড়িয়েছি এই ঘটনা বাংলাদেশেও ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব, বোরখা বা টিশার্ট পরে আসার কারণেও শিক্ষকদের হাতে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। কোন শিক্ষার্থীর পোশাকের স্বাধীনতাকে খর্ব করা চলবে না। পোশাকের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার কারণে ভারতের শিক্ষার্থীরা যে প্রতিবাদ জারি রেখেছে তার প্রতি আমরা সংহতি জানাই। পোশাকের স্বাধীনতা যেখানেই কেড়ে নেওয়া হবে সেখানেই আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবো।

প্রসঙ্গত, ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে হিজাব পরে যাওয়ার সময় একটি কলেজের সামনে গেরুয়া উত্তরীয় পরা একদল ছাত্রের কাছে উত্ত্যক্ত ও লাঞ্ছিত হন মুসলিম ছাত্রী মুসকান। তিনি বলেছেন, উত্ত্যক্তকারী ছাত্রদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে চিন্তিত নন তিনি। হিজাব পরার অধিকার রক্ষার এই লড়াই চালিয়ে যাবেন।

মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) কলেজের সামনে সহপাঠী ছাত্রদের হাতে মুসকানের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল ফুটেজে দেখা গেছে, গেরুয়া উত্তরীয় পরা ছাত্ররা চিৎকার করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে মুসকানও ‘আল্লাহু আকবর’ বলে পাল্টা জবাব দিয়ে কলেজ ভবনের দিকে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা ওই ছাত্রদের থেকে মুসকানকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনার পর থেকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম