বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তিতে সমন্বয়হীনতা, ভোগান্তি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:৪৭

ভোগান্তি কমানোর জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু হলেও সেই ভোগান্তি রয়েই গেছে। ছয় মাস আগে শুরু হওয়া ভর্তি কার্যক্রম এখনো শেষ করা যায়নি। আরো কত দিন লাগবে তা বলতে পারছে না কেউ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। এতে অর্থ এবং সময়ও অপচয় হচ্ছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থীর ১০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেও ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। আর সপ্তম বারের মতো মেধাতালিকা প্রকাশ করেও শিক্ষার্থী পাচ্ছে না কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে না পারায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আবার ভর্তি কার্যক্রম শেষ না করেই অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস শুরুর তারিখ ঘোষণা করেছে। সবমিলিয়ে একটা হযবরল অবস্থা।

দেশে প্রথম বারের মতো ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হয়। পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এ থেকে মুক্তি দিতে এই পদ্ধতির সূচনা করা হয়।

শুরুতে ভর্তি কার্যক্রম সমন্বয় করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগে ৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য আসন থাকলে সপ্তম বারের মতো মেধা তালিকা প্রকাশ করে পেয়েছে মাত্র ২১ জন। সব মিলিয়ে সপ্তম মেধা তালিকায় বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য ইউনিটে ফাঁকা আসন ৫৪৩টি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি ইউনিটে মোট আসন সংখ্যা ২ হাজার ৭৬৫টি। অষ্টম মেধা তালিকা প্রকাশ করবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় মেধা তালিকার ভর্তি কার্যক্রম সম্প্রতি শেষ হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে তৃতীয় মেধা তালিকা। তবে এখনো তিন ইউনিটে প্রায় দেড় হাজার আসন খালি থেকে গেছে ।

তৃতীয় মেধা তালিকায় ভর্তির পরও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১০ আসন শূন্য আছে। আসন ফাঁকা থাকায় চতুর্থ মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী সাক্ষাৎকার দিয়েও ভর্তি হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ইউনিটে ৫০টি, বি ইউনিটি ১২১ এবং সি ইউনিটে ৩৯টি আসন শূন্য রয়েছে। ‘এ’ ইউনিটে সাক্ষাৎকার হয়েছিল। তারা অনেকেই ভর্তি হয়নি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সবাই হয়রানির শিকার।

শিক্ষাথী‌র্রা বলছে, অনেকে ১০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করলেও ভর্তির সুযোগ পায়নি। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সরাসরি মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করে। অনেকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভর্তি হয়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও নানামুখী ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

ভর্তির সঙ্গে যুক্ত এক উপাচার্য এই প্রতিনিধিকে জানান, সমন্বয়হীনতার কারণেই এই ভোগান্তি। ভর্তির শুরুতে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকলেও ভর্তির ফল প্রকাশের কেন্দ্রীয় কোনো সমন্বয় ছিল না। ভর্তিতে অধিক সংখ্যক আবেদন পড়া এবং মেধাবী শিক্ষার্থী বাছাইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতার কারণে শিক্ষাথী‌র্দের এই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে গুচ্ছ পদ্ধতির আওতায় না থাকলেও গুচ্ছের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শতাংশ আসন শূন্য। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ক্লাস শুরু করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ২২ ফেব্র‚য়ারি ক্লাস শুরুর কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে শিক্ষাথী‌র্রা আসছে না।

গুচ্ছ ভর্তির টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমদ নূর বলেন, ভর্তির ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকলে ভালো হতো। তবে আগামীতে এ বিষয়টিতে নজর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এবার অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সাকু‌র্লার দিয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সেখানে চলে গেছে। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে ইতিমধ্যে দুই একটি সেমিস্টারও শেষ করেছে। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে মেধা তালিকায় থাকলেও ভালো মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসব শিক্ষাথী‌র্ আসছে না। ফলে আসন শূন্য থেকেই যাচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শুরু হয়। প্রায় ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এতে আবেদন করে।

ইত্তেফাক/ আরাফাত