বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগ নাম দেবে, বিএনপিসহ সাত দলের ‘না’ 

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:১২

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে আইন অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের নামের প্রস্তাব পাঠানোর শেষ দিন আজ শুক্রবার। অনুসন্ধান কমিটির পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিইসি ও চার জন নির্বাচন কমিশনার পদের বিপরীতে দুই জন করে অনধিক ১০ জনের নামের তালিকা পাঠানোর জন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ জানিয়ে বুধবার চিঠি পাঠিয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আজ শেষ দিনে নামের তালিকা দেবে। জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জাসদ গতকাল বৃহস্পতিবার জীবনবৃত্তান্তসহ ১০ জনের নামের তালিকা জমা দিয়েছে। আরো কয়েকটি দলও ইতিমধ্যে নামের তালিকা পাঠিয়েছে। জাতীয় পার্টি-জেপি আজ নামের তালিকা জমা দেবে।

তবে চিঠি পেলেও বিএনপিসহ অন্তত সাতটি দল অনুসন্ধান কমিটির কাছে কোনো নামের তালিকা পাঠাচ্ছে না। এই দলগুলো রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ডাকা সংলাপেও যায়নি। তবে রাষ্ট্রপতির সংলাপে গিয়েছিল এ রকম তিনটি দলও নামের তালিকা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সংলাপেও যায়নি এবং অনুসন্ধান কমিটির কাছে নামের তালিকাও পাঠাচ্ছে না—এমন দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং চরমোনাই পিরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)। আর রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেওয়া ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চিঠি পেলেও নামের তালিকা পাঠাবে না।

অনুসন্ধান কমিটিতে নামের প্রস্তাব না পাঠানোর বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘নামের তালিকা পাঠানো অর্থহীন। সরকারের পছন্দের লোকদের নিয়েই নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন হবে। কাজেই এখানে নামের তালিকা পাঠানো আর না পাঠানোর মধ্যে কোনো তফাত নেই।’

গত ২৭ জানুয়ারি সংসদে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ পাশ হয়েছে। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ৫ ফেব্র‚য়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। কমিটি প্রথমে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নামের প্রস্তাব আহ্বান করে। বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সরাসরি, চিঠির মাধ্যমে কিংবা ইমেইলে নামের তালিকা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। পরে অনুসন্ধান কমিটি নামের প্রস্তাব চেয়ে বুধবার ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠানোর নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বুধবার দলগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠি প্রাপ্তির কথা জানিয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এই অনুসন্ধান কমিটি ও রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা নেই, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি নতুন ইসি গঠন করবেন। কাজেই এখানে আমরা নাম দিয়ে কী করব! চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তো আসবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে।’

প্রসঙ্গত, সংসদে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ পাশ হওয়ার সময়ও এনিয়ে বিতর্ক হয়। বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাব আনা সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ সেদিন বলেছিলেন, সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট লেখা আছে রাষ্ট্রপতি মাত্র দুই জন ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন। একজন হলেন প্রধানমন্ত্রী, আরেক জন প্রধান বিচারপতি। অন্য যে কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট এমপিরা সেদিন এটাও বলেছিলেন, সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধন না করে ইসি গঠনে এই আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি পেয়েছি। তবে আমরা কোনো নামের প্রস্তাব পাঠাব না। কারণ ইসি, নির্বাচনব্যবস্হা ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের যে অনাস্হা সেটি এই আইনের মাধ্যমে দূর হয়নি। এ অবস্হায় নাম দেওয়া অর্থহীন। এ ধরনের নামের তালিকা দেওয়ালে ঝুলানো আর অনুসন্ধান কমিটির কাছে পাঠানোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

চরমোনাই পিরের আইএবির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘সবাই জানে কী হবে। নতুন কমিশন কেমন হবে সেটাও জানে। সবকিছু আগে থেকেই ঠিক করা। কাজেই এখানে নাম পাঠানো অর্থহীন।’

রাষ্ট্রপতির সংলাপে গেলেও অনুসন্ধান কমিটির কাছে নামের তালিকা না পাঠানোর বিষয়ে বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ইত্তেফাককে বলেন, ‘নাম দেব না, দিয়ে কী হবে।’ গণফোরাম নেতা মোশতাক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দল সংলাগে অংশ নিয়েছে, তবে আমরা নামের তালিকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ নাম পাঠানোটা লোক দেখানো ছাড়া কিছুই নয়।’ অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির সংলাপে গেলেও নামের তালিকা না পাঠানোর কথা অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে গতকাল ফিরতি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি।

প্রাপ্ত নামের তালিকাগুলো নিয়ে আগামীকাল শনিবার দুই দফায় বৈঠকে বসবে অনুসন্ধান কমিটি। বৈঠকে নামগুলো পর্যালোচনা করে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। পরদিন রবিবার কমিটি বৈঠক করবে বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নির্বাচন হতে না দেওয়ার আস্ফালন করে লাভ নেই: ওবায়দুল কাদের

সংলাপের সুপারিশ নিয়ে এক মঞ্চে আলোচনা

নির্বাচনকালীন সরকারে ইসির নিয়ন্ত্রণ চায় অধিকাংশ দল

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে ইসি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনে না এলে অপশক্তি মাথা চাড়া দেবে: সিইসি

সরকার ইসিকে সহযোগিতা না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে : সিইসি

সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে নির্বাচন কমিশন: সিইসি

ভোটার না এলে বোঝা যাবে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হচ্ছে : সিইসি