মাছের ঘেরে বাঁধ, কেশবপুরে পানিবন্দি ১০ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:০২

ব্রিজ, কার্লভাটের মুখ বন্ধসহ মৎস্য ঘেরের অপরিকল্পিত ভেড়ি বাঁধের কারণে কেশবপুরের ১০ গ্রামের হাজারও পরিবার সারা বছরই পানিবন্দি জীবন যাপন করছেন। পানিবন্দি এলাকার নারী-পুরুষ ও শিশুরা পাঁচড়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বসতবাড়িতে পানি ওঠার কারণে অনেক পরিবার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিঙি নৌকা ও বাঁশের সাঁকো। জলাবদ্ধতার কারণে ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো।

ভবদহ প্রকল্পের আওতায় পাজিয়া ও সুফলাকাটি ইউনিয়নের কালিচরণপুর, বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, বেতিখোলা, মাদারডাঙ্গা, নারায়নপুর, পাথরঘাটা, আড়~য়া, ময়নাপুর, সানতলা ও গৃধরনগর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিগত সাত-আট বছর ধরে পানিবন্দি জীবন যাপন করছেন। এর মধ্যে বাগডাঙ্গা ও মনোহরনগর গ্রামের মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দি। অতীতে এসব এলাকার মানুষ জমিতে চাষাবাদ ও খালবিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০০০ সালে এলাকার প্রভাবশালীরা বিলগুলো দখল করে মাছের ঘের করেন। ঐ সময় ঘের মালিকরা ব্রিজ, কালভার্টের মুখ ভরাটসহ অপরিকল্পিত ভেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে ফেলে। এর পরও ঘের মালিকরা মাছ চাষের জন্য শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে বিলগুলো ভরাট করে রাখে। ফলে বর্ষাকালে যেনতেন বৃষ্টিতেই পানি মানুষের বসতবাড়িতে উঠে যায়। এলাকায় দেখা দেয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। প্রায় সারা বছরই মানুষের বসতভিটায় পানি থাকে।

বাগডাঙ্গা গ্রামের অনাথ বন্ধু সরকার ও মিহির সরকার জানান, গত আশ্বিন মাস থেকে তাদের গ্রামের প্রতিটি মানুষের বাড়িতে পানি। এখনো পানি নামেনি। এর পরও মনিরামপুর এলাকার ঘের মালিকদের পাশাপাশি পাজিয়া ও সুফলাকাটি ইউনিয়নের ঘের মালিকরা দিনরাত শ্যালো মেশিন দিয়ে বিলের পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম চালানোর ফলে দিন দিন পানি বাড়ছে। পানি নিষ্কাশন পথ না থাকায় তা উঠে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটায়। এলাকার নারী-পুরুষ ও শিশুরা সারাদিন পানিতে চলাচলের কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি, চুলকানি পাঁচড়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। পাঁচ-ছয় বছর ধরে কোনো ফসলও আবাদ হচ্ছে না। বিলসংলগ্ন এলাকার কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও কার্যত কোনো সুফল আসেনি। ২৭ বিল পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, শ্রী নদী পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশন করতে গিয়ে ঘের মালিক আকবর আলীর বেতিখোলা বিলের ঘেরের ভেড়ি ভেঙে নতুন করে পানি মানুষের বসতভিটায় উঠে গেছে। ঘের মালিক আকবর আলী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির পানির চাপে ঘেরের ভেড়ি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানি উঠে গেছে মানুষের বসতভিটায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে চলতি বোরো মৌসুমে ভবদহসংলগ্ন ১৬ বিলের সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমি পতিত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুনশি আছাদুল্লাহ বলেন, ভবদহসংলগ্ন ২৭ বিলের পানি কাটাখালীর স্লুইসগেট হয়ে ডায়ের খালের আট ব্যান্ড স্লুইসগেট দিয়ে শ্রী নদীতে নিষ্কাশন হতো। কিন্তু শ্রী নদী পলিতে ভরাট হওয়ার কারণে পানি সরছে না। ভবদহ প্রকল্পে শ্রী নদী অন্তর্ভুক্ত আছে। ভবদহ প্রকল্প অনুমোদন না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।

ইত্তেফাক/এমআর