টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল আজগানা ইউনিয়নের পলাশতলি- কুড়িপাড়া তিন কি. মি. খাল দখল ও ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি নিষ্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতায় পাঁচশত হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পরেছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। খাল ভরাট হয়ে পানি বের হতে না পারায় চরম বিপাকে পরেছেন তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আজগানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম সিকদার।
মো. রফিকুল ইসলাম সিকদার বলেন, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল খালটির দুই পাশে ভরাট করে অবৈধ ইট ভাটা স্থাপন করায় বিলের পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। বিলে জমে থাকা পানি বের হতে না পারায় প্রতি বছর বিপুল অংকের টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রাশসনের সহযোগিতায় খালটি খননসহ উদ্ধার করা হবে।
শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কুড়িপাড়া ও পলাশতলি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষক সুলাইমান (৫০), আরাফাত আলী (৪৫), তোতা মিয়া (৬০) ও ইয়ার উদ্দিন (৫৮) সহ ১০-১২ জন জানান, বংশাই নদীর শাখা পলাশতলি-কুড়িপাড়া খাল। ১২০ ফুট প্রশস্ত তিন কি. মি. খালটি শালিকমারা বিলে গিয়ে মিশেছে। খালটি এক সময় খরস্রোতা হওয়ায় সহজেই বিলের পানি প্রবাহিত হয়ে নদীতে গিয়ে পড়তো। খালে বাঁধ দিয়ে এলাকার কৃষকগন চাষাবাঁধসহ নানা ভাবে এটি ব্যবহার করে আসছিল। গত দুই-তিন বছরের ব্যবধানে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল খালটি দখল করে দুই পাশে গড়ে তুলেছে অবৈধ ইটভাটা, চলাচলের জন্য ব্যক্তিগত রাস্তা এবং ভরাট করে উঁচু আবাদি জমি তৈরি করেছে। ফলে পানি প্রবাহিত হতে না পেরে খালটি এখন মৃত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পরেছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, খালের দুই পাশে কুড়িপাড়া, মধুরটেকি, পলাশতলী গ্রাম ও শালিকমারা বিলে অন্ততপক্ষে পাঁচশত হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। খালটি ভরাট হওয়ার ফলে বিলের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিলের পানি বের হতে না পারায় জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকে। এলাকার কৃষকরা ধান চাষ করতে পারছেন না। প্রতি বছর এলাকার কৃষকগন ৬০-৭০ হাজার মন ইরি বোরো ধান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ওবাঁশতৈল ইউনিয়নের ৩৫ খালের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকার ভূমি দস্যুরা দিন দিন এই সব খালের দুই পাশ দখল করে আবাদি জমি, রাস্তঘাট ও বসতি গড়ে তুলেছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য নদী, খাল বিল ও জলাশয়ের কোন শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না এমন সরকারী নির্দেশনা রয়েছে। আজগানা ইউনিয়নের পলাশতলি-কুড়িপাড়া খালটি অবৈধ ভাবে যারা দখল করে ইটভাাটা ও ভরাট করে রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছে তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার সরকারী খাল, নদী, জলাশয় ও ডুবানালা দখল হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে জনস্বার্থে এগুলো উদ্ধার করা হবে।
