চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ফরমালিন পরীক্ষা ছাড়াই আমদানিকৃত ফলের ট্রাক প্রবেশ করছে দেশে। খালাস হওয়ার পর এসব ফল নিমেষেই চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, জাল ফরমালিন পরীক্ষার সনদ ব্যবহার করে এসব ফল ছাড় করানো হচ্ছে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর ঘুরে এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সময় জানা যায়, আগে স্থলবন্দরে ফরমালিন পরীক্ষা করার জন্য একটি পরীক্ষাগার ছিল। পরীক্ষাগার থেকে ফরমালিন পরীক্ষা করেই সনদ দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে স্থলবন্দর এলাকায় কোনো ফরমালিন পরীক্ষাগার নেই। একাধিক সূত্র জানায়, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আমদানি করা এসব ফল বাংলাদেশে আসতে বেশ কয়েক দিন লেগে যায়। কিন্তু ফলগুলো যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করে তখন বলা যায়—তাজাই থাকে। কীভাবে এমনটি হয় সেখান থেকে অনেকেই সন্দেহ করেন এসব ফলে ফরমালিন দেওয়া থাকে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ফরমালিন পরীক্ষা করার জন্য আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেই। আমদানিকারকরা ফরমালিন পরীক্ষার সনদ আমাদের দেয়। তাই দেখে ফলের ট্রাক ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু সোনামসজিদ স্থলবন্দরে অবস্থিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা খন্দকার আব্দুল হাই জানান, আমরা ফরমালিন পরীক্ষা করে কোনো সনদপত্র দেই না। আমরা শুধু গম, ভুট্টা, চাল, পেঁয়াজ ও ফলে রোগ পোকা-মাকড় আছে কি না সেটি নিশ্চিত করি এবং এর সনদ দেই। গত জানুয়ারি মাসে আমরা ১ হাজার ৭৮৮টি এই ধরনের সনদ দিয়েছি। তিনি আরো জানান, আমাদের এখানে ফরমালিন পরীক্ষা করার জন্য যন্ত্রই নেই। তাহলে ফরমালিন পরীক্ষার সনদ কীভাবে দেব?
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর এম ও ডা. আজিজুল হক সুইট জানান, ফরমালিন হলো একজাতীয় কেমিক্যাল। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। ফরমালিন মেশানো ফল বা যে কোনো খাদ্য খেলে মানুষ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
