রাশিয়া যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনে সামরিক হামলা চালাতে পারে- শুক্রবার এই সতর্কতা জারির পরদিনই আমেরিকা কিয়েভে তাদের দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কিয়েভের দূতাবাস থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
বার্তা সংস্হা এপি খবর দিচ্ছে কিয়েভ থেকে দূতাবাসকর্মীদের সরিয়ে পোল্যান্ড সীমান্েতর কাছাকাছি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয় রাশিয়া যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান বলেন, রাশিয়া হয়তো ব্যাপক মাত্রায় বিমান হামলা দিয়ে অভিযান শুরু করবে এবং তা হলে মার্কিন নাগরিক এবং দূতাবাসকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনা এরপর কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও রাশিয়া বার বার বলেছে ইউক্রেনে সামরিক হামলা চালানোর কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। কিন্তু ইউক্রেন থেকে তাদের কূটনীতিকদের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্েতর কথা নিশ্চিত করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ইউক্রেন সরকার এবং তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রের সম্ভাব্য উসকানির কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বলেন, রুশ দূতাবাস এবং কনসু্যলেটগুলো খোলা থাকবে। এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, তাদের যে নাগরিকরা ইউক্রেনে আছেন তারা যেন বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসের চলাচল থাকতে থাকতেই দেশটি ছেড়ে আসেন। একই ঘোষণা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
পুতিনকে ফোন করবেন বাইডেন :আমেরিকার কাছ থেকে এই সতর্কতা এমন সময় জারি করা হচ্ছে যখন যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার খবর পাওয়া যাচ্ছে। জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ আলাদাভাবে টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান রুশ সৈন্যরা এখন যেকোনো সময় ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি শেষ করেছে। যদি আমরা সুনিশ্চিতভাবে ভবিষ্যতের কথা বলতে পারি না, আমরা জানি না ঠিক কি হবে, কিন্তু এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যাতে এখনই ইউক্রেন সরে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সালিভান বলেন, আমেরিকা এখনো জানে না পুতিন হামলা শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা। কিন্তু হামলা শুরুর ছুতো খুঁজছে ক্রেমলিন এবং ব্যাপক বিমান হামলা দিয়ে হামলা শুরু হবে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, রাশিয়া হামলা শুরু করলে আটকে পড়া মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে তিনি সৈন্য পাঠাবেন না। তবে আমেরিকা পোল্যান্ডে মোতায়েনের জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে যারা আগামী সপ্তাহে পৌঁছবে। বলা হয়েছে, কিন্তু মার্কিন সৈন্যরা ইউক্রেনে গিয়ে যুদ্ধ করবে না, কিন্তু আমেরিকান মিত্রদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে।
ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্পর্কিত সংবাদদাতা বার বার প্লেট আশার বলছেন, যেভাবে রাশিয়া সৈন্য বাড়াচ্ছে এবং সেসঙ্গে সামরিক মহড়া শুরু করেছে সেটাকে আমেরিকানরা সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে মনে করছে। রাশিয়া শুক্রবার ৩০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ক্রিমিয়ায় নৌ মহড়া চালিয়েছে। এছাড়া, বেলারুশে ১০ দিনের সেনা মহড়া অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন শুক্রবার ঘনিষ্ঠ ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন খুব শিগগিরই সেনা অভিযানের নির্দেশ দিতে পারেন।
জানা গেছে, বাইডেন শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল মার্ক মাইলি রাশিয়া, কানাডা, ব্রিটেন ও ইউরোপের সামরিক উপদেষ্টাদের বার বার ফোন করছেন। রাশিয়া অভিযোগ করছে আমেরিকানরা ইচ্ছা করে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছে, কিন্তু জেক সালিভান বলেন, তারা মিত্রদের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করার ব্যাপারে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতার মধ্যে দেশটির নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন সরকার। গতকাল ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানোর পাশাপাশি হামলার বিষয়ে কোনো ধরনের আতঙ্ক না ছড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই মুহূর্তে শান্ত থাকা খুব জরুরি। প্রয়োজন দেশের ভেতরে একতা তৈরি এবং অস্হিতিশীলতা ও আতঙ্ক ছড়ায় এমন কাজ এড়িয়ে চলা।
