দুধকুমর নদে অবাধে বালু উত্তোলন, হুমকিতে সোনাহাট রেল সেতু

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:১৫

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রশাসনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুধকুমর নদ থেকে বালু উত্তোলন চলছে। উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে দুধকুমর নদের ওপর অবস্থিত শতবর্ষী সোনাহাট রেলসেতুর ৪০ থেকে ৫০ মিটার উত্তরে দুধকুমার নদের একাধিক স্পট থেকে দিন-রাত বালু তুলে বিক্রি করছে বালু ব্যবসায়ী একটি চক্র। বালু উত্তোলনের কারণে সেতুটি হুমকির মুখে পড়ছে। 

আর যেসব স্থান থেকে বালু তোলা হচ্ছে তার মাত্র কয়েক মিটারের মধ্যে রয়েছে বসতি, স্থাপনা ও ফসলি জমি। স্থানীয়রাও আশঙ্কায় রয়েছেন—এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে তাদের বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ভাঙনের মুখে পড়বে।

জানা গেছে, এলাকাবাসী বিষয়টি অভিযোগ আকারে জানানোর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাইকেরছড়া ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। কিন্তু তারপরও বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সময় জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রলি, থ্রি হুইলার, ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বালু উত্তোলনের কাজ। গাড়িপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে বালু ব্যবসায়ী চক্র। গাড়ির হিসাব রাখার জন্য তাঁবু খাটিয়ে বসে থাকে তাদের লোক। তার দৈনিক মজুরি ২০০ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন এলাকাবাসী জানান, একজন ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী নিয়ে গড়ে উঠেছে এ চক্র। তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বালু বিক্রি করছে। বাধা দিলেও মানছে না। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতেও পারছে না। বালু উত্তোলন বন্ধ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা তারা নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার এই প্রতিবেদককে বলেন, কে বা কারা বালু তুলে বিক্রি করছে তা আমার জানা নেই। ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কয়েক দিন পূর্বে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন। কিন্তু এখনো বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা জানান, বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণসহ উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/ আরাফাত