কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৯। এবারও এ বোর্ডে পাসের হারে ও জিপিএ-৫ অর্জনে তিনটি (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা) বিভাগের সার্বিক ফলাফলে ছেলেদের ছাড়িয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের চেয়ে জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ৩ হাজার ৩৬১ জন মেয়ে।
এবার এ বোর্ডে শতভাগ উত্তীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯৭টি। রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ ফল ঘোষণা করেন। গত বছরের ফলাফলেও পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে মেয়েরা এগিয়ে ছিল। গতবার এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৬ দশমিক ৮৭।
এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৬৬ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৬৮০ জন। মেয়েরা পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৬২ হাজার ৯৪৪ জন এবং ছেলেরা ৫১ হাজার ৬১৫ জন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১৪ হাজার ১৫৩ জন। এর মধ্যে মেয়ে ৮ হাজার ৭৫৭ জন, আর ছেলে ৫ হাজার ৩৯৬ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার তিনটি বিভাগেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৯৭২ জন জিপিএ-৫ পায়, এর মধ্যে মেয়ে ৫ হাজার ৫৭২ জন ও ছেলে ৪ হাজার ৪০০ জন। মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ৬৬৪ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৫৬ জন মেয়ে ও ৫০৮ জন ছেলে এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ হাজার ৫১৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ২৯ জন মেয়ে ও ৪৮৮ জন ছেলে রয়েছে।
এর আগের টানা পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে ছিল। ২০২১ সালে ১৪ হাজার ১৫৩ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়ে ৮ হাজার ৭৫৭ জন ও ছেলে ৫ হাজার ৩৯৬ জন, ২০২০ সালে ৯ হাজার ৩৬৪ জনের মধ্যে ছিল মেয়ে ৫ হাজার ৩৮৬ ও ছেলে ৩ হাজার ৯৭৮ জন, ২০১৯ সালে ২ হাজার ৩৭৫ জনের মধ্যে মেয়ে ১ হাজার ৩৮৪ ও ছেলে ৯৯১ জন, ২০১৮ সালে ৯৪৪ জনের মধ্যে মেয়ে ৪৮৩ জন ও ছেলে ৪৬১ জন এবং ২০১৭ সালে ৬৭৮ জনের মধ্যে মেয়ে ৩৫৩ ও ছেলে ৩২৫ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল।
নগরীর একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান, ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ঘরে বেশি থাকে। এ জন্য মেয়েরা এবার আরও ভালো ফলাফল করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৬টি (কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী) জেলার ৪০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মাঝেও সরকারের নির্দেশনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ নিয়মিত তদারকি ও শিক্ষক-অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের চেষ্টার কারণে এবারের ফলাফল অনেক ভালো হয়েছে।
