‘ফুলের রাজধানীতে’ ১৫ কোটি টাকার বেচাকেনা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:৩৫

ওমিক্রনের বিস্তার কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তির সুবাতাস ফিরে এসেছে ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালীর ফুলবাজারে। বসন্তবরণ আর ভালোবাসা দিবসলগ্নে ফুলের দামের ঊর্ধ্বগতি ফুলচাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

ফুলবাজারে নতুন সংযোজন- টিউলিপ। শীতপ্রধান দেশের এই ফুল চাষ শুরু হয়েছে গদখালীতে, ফলনও হচ্ছে ভালো। দুই দিবস ঘিরে এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে ১৫ কোটি টাকার ফুল। সোমবার নাগাদ তা অন্তত ২০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন এখানকার ফুলচাষিরা। এতে গত দুই বছরে করোনার কারণে লাগাতার ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে যাবে বলে আশা তাদের।

শীতের ভোরে চাষিরা গদখালী বাজারে ফুলের পসরা নিয়ে বসেন। গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা রকম ফুল নিয়ে আসেন শত শত ফুলচাষি। ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে সেখানে ফুল কিনতে আসেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ফুলের দামাদামিতে বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। গত চার দিন যাবত ফুলের বাড়তি চাহিদা থাকায় ফুলচাষিরাও বাজারে বেশি বেশি ফুল এনেছেন। বেচাকেনা জমে ওঠায় ‘ফুলবাজারে’ এখন উৎসবের আমেজ।

গতকাল রবিবার গদখালীতে প্রতিটি গোলাপ ফুল বিক্রি হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকায়, চায়না  রোজ ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, রজনীগন্ধার স্টিক বিক্রি হয়েছে ১৬-১৮ টাকায়, গ্লাডিওলাস ১২ থেকে ১৬ টাকায়, জারবেরা প্রতিটি ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গাঁদা ফুল বিক্রি হয়েছে প্রতি হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। দু’সপ্তাহ আগেও এসব ফুলের দাম অর্ধেকেরও কম ছিল।

ফুলের বাজার চাঙ্গা হওয়ায় প্রায় দুই বছর পর মুখে হাসি ফুটেছে গদখালীর চাষিদের। তারা বলছেন, বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবস যত এগিয়ে আসবে ফুলের দামও তত বাড়বে। গদখালী বাজারে ফুল নিয়ে আসা পানিসারার হাড়িয়া নিমতলা এলাকার তরুণ ফুলচাষি রাসেল হোসেন বলেন, অনেকদিন পর বেচাকেনা অনেক ভালো হচ্ছে। করোনার মধ্যে ফুলের বাজার বসলেও গত কয়েক মাসে এতটা চাঙ্গা ছিল না।

পটুয়াপাড়া গ্রামের ফুলচাষি রেজাউল ইসলাম চার বিঘা জমিতে গোলাপের চাষ করেছেন। তিনি জানালেন, এখন গোলাপের দাম দ্বিগুণ। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে আরো বাড়বে। আর তাই ফুল যাতে দেরিতে ফোটে সেজন্য গোলাপের কুঁড়িতে ক্যাপ পরিয়ে রাখা হয়েছে। এজন্য বাড়তি তিন থেকে চার টাকা খরচ হচ্ছে। বসন্ত-ভালোবাসা দিবসে সেই ফুল বিক্রি করতে পারলে সব খরচ উঠে দ্বিগুণ লাভ হবে।

গদখালীতে প্রথমবারের মতো টিউলিপ চাষ করেছেন পানিসারা গ্রামের ইসমাইল হোসেন। তার পাঁচ শতক জমিতে ফুটেছে সাত রঙের টিউলিপ ফুল। তিনি জানান, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে তার জমিতে টিউলিপ ফোটা শুরু হয়েছে। তবে ফুটেছে মাত্র ২৫০টি, প্রতিটি ফুল বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা করে।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্যমতে, যশোরে প্রায় ৬ হাজার ফুলচাষি রয়েছেন। তারা অন্তত ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফুল চাষ করেন। ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী, পানিসারা, নাভারণ, নির্বাসখোলার বিভিন্ন মাঠে অন্তত ১১ ধরনের ফুল চাষ হয়ে থাকে। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, জিপসি, রডস্টিক, ক্যালেন্ডুলা, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল শোভা পাচ্ছে। বসন্ত উত্সব ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রতিবছরই গদখালীর ফুলচাষিরা নতুন জাতের ফুল উপহার দিয়ে থাকেন। গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, লং স্টিক রোজের পর এবারের ভালোবাসা দিবসে ফুলপ্রেমীদের জন্য নতুন উপহার—টিউলিপ।

ইত্তেফাক/ আরাফাত