জামিল হোসেন। কলকাতার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসলেও নিজের দেশে আবার শূণ্য থেকেই শুরু করেছেন অনেকটা। অভিনয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সম্প্রতি সেই সাফল্যের পালকে আরো যোগ হলো অভিনয় শিল্পী সংঘের নির্বাচণে প্রথমবার অংশ নিয়ে জয়লাভ করা। কথা বলেছেন নানা প্রসঙ্গে।
অভিনয়শিল্পী সংঘের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে নিলেন। সংগঠনটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
জীবনের প্রথম নির্বাচনে জয়লাভ করেছি। সহকর্মীরা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন তার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব। এখনো নতুন কমিটির পরিকল্পনা হয়নি। তবে শিল্পীদের কাজের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকারদের মাঝে সমন্বয় তৈরি করার ইচ্ছে আছে।
একই ঘরানার শিল্পীদের নিয়ে কাজের প্রবণতা ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছে। এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কি-না?
আমি পদক্ষেপ গ্রহণ করব এটা বলতে পারি না। কারণ সিদ্ধান্ত নেবেন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক, আমি আমার মতামত পেশ করতে পারি। সেই জায়গা থেকে চেষ্টা থাকবে যারা ভালো কাজ করেন বা করতে চান কিন্তু সুযোগ পাচ্ছেন না। তাদের কাজের একটি ক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়ার। পাশাপাশি আমাদের সংগঠনের ইউটিউব চ্যানেলটি আরো সক্রিয় করার পরামর্শ থাকবে। এখানে শিল্পীদের কাজের সুযোগের সঙ্গে অন্য জায়গায় ক্ষেত্র তৈরি হবে।
শিল্পীদের পেশাদারিত্ব নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। এক্ষেত্রে সংগঠনের ভূমিকা কী হবে?
এই অভিযোগ কিন্তু সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। কিছু শিল্পী হয়তো এই দলে আছেন। পেশাদারিত্ব না থাকলে এত বড় একটি ইন্ডাস্ট্রি চলতে পারতো না।
এর বাইরে কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
টেলিভিশন ও ইউটিউবের একক নাটক করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে।
ওটিটি নিয়ে পরিকল্পনা বা প্রত্যাশার জায়গা কোথায়?
এরইমধ্যে ওটিটির একাধিক কাজের প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু গল্প-চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় করছি না। কারণ আমি চাই টিভিতে দর্শকরা আমাকে যেভাবে দেখেছেন তার বিপরীতভাবে ওটিটিতে নিজেকে উপস্থাপন করতে। নিজেকে সেভাবেই তৈরি করছি।
‘মীরাক্কেল’-এ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও ছোট ছোট চরিত্র দিয়ে অভিনয় শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন অনেক নাটকেই মূল ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। এই উত্থান-পতনে গল্পটি জানতে চাই
— দেখুন, উত্থান-পতন সবার জীবনেই থাকে। কলকাতা থেকে ফেরার পর দেখলাম তুমুল জনপ্রিয়তা মাধায় রাখলে এখানে কাজ করতে পারব না। তখন ভেঙে না পড়ে ছোট ছোট কাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। যদিও এখন যে অবস্থানে আছি সেভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল! তারপর যখন সবাই দেখলেন এই ছেলেটি কাজ করতে চায় তখন ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি হতে লাগল। আসলে ভালোবাসা থেকে কোনো কাজের সঙ্গে লেগে থাকলে সফলতা আসতে বাধ্য।
কিন্তু মীরাক্কেল থেকে এসেও সেভাবে তো জায়গা তৈরি করতে পারেননি...
না, এটা ভুল। যে যেটা করতে চায় বা ইচ্ছে আছে, সে সেগুলো কিন্তু করছে। আমি টিভিতে কাজ করছি বলে দেখা যাচ্ছে না।
ইদানিং হিরো-হিরোইন নির্ভরতার বাইরে গিয়ে গল্পকে প্রধান্য দিয়ে নির্মাণ বাড়ছে। এটাকে কী ধারাবদল বলা যায়?
অবশ্যই বলা যায়। এখন তো চরিত্রাভিনেতাদের সময় চলছে। বাইরের দেশেরও গল্প এবং অভিনেতাকে দেখছে মানুষ। যার প্রভাব আমাদের নাটকেও পড়ছে।
তাহলে কী বলতে চাচ্ছেন এতে তথাকথিত ভিউ বাণিজ্য কমে যাবে?
ভিউয়ের সঙ্গে এর কাজের মানের সম্পর্ক নেই। ভালো কাজের ভিউ থাকবেই। খারাপ কাজের ভিউ হয় না সেটা বলছি না। তবে সেটা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়।
ভাঁড়ামো করতে গিয়ে নাটক সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে কি-না?
অবশ্যই যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাঁড়ামো করতে গিয়ে ‘বিপ’ শব্দ ব্যবহার বেশি করছি আমরা। এখানে শিল্পীর দায়টা বেশি। আমাদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
একই নাটকে একাধিক আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার নিয়ে কী বলবেন?
এটা খুবই দুঃখজনক একটি বিষয়। আমরা একটা যুক্তি দাঁড় করিয়ে বিষয়টি চালিয়ে দিই, কিন্তু এটা ঠিক না।

নিপুণ-জায়েদের পদ নিয়ে হাইকোর্টের রুল শুনানির জন্য তালিকায়
বাংলা গানে প্রথম নারগিস ফাখরি