ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়া কি মিথ্যা বলছে?  

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২২:১৮

ইউক্রেন সীমান্তের কাছে লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। পশ্চিমাদের শঙ্কা, ইউক্রেনে যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। এর মধ্যে বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়া জানিয়েছে, ক্রিমিয়ায় সেনা-মহড়ার সমাপ্তি ঘটেছে। এর আগের দিন রাশিয়া জানায়, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে তারা কিছু সেনা সরিয়ে নিচ্ছে। তবে রাশিয়ার এমন ঘোষণা বিশ্বাস করছে না পশ্চিমা বিশ্ব। 

এরই মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বুধবার বলেন, ‘ইউক্রেন সীমান্তের কাছ থেকে রুশ সেনার কোনো অর্থপূর্ণ প্রত্যাহার হয়নি। রাশিয়া কী বলে, আর কী করে; এর মধ্যে পার্থক্য আছে।’   

এছাড়া, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইউক্রেন সীমান্ত থেকে রাশিয়ার সামরিক সেনা প্রত্যাহারের কোনো প্রমাণ নেই। দেশটি এখনো কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ইউক্রেনে পুরোদস্তুর হামলা চালাতে সক্ষম।’

বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনেস্কি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সত্যি বলতে আমরা আমাদের বাস্তবতার প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাই। আমরা রুশ সেনাদের এখনো কোনো প্রত্যাহার দেখছি না। শুধু আমরা এটি সম্পর্কে শুনেছি।’

এছাড়া বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, ‘ইউক্রেনের সীমান্তের কাছে রাশিয়ার অব্যাহত সেনা মোতায়েনে আমাদের উদ্বেগ একটুও কমেনি।’

বার্তা সংস্থা সিএনএনকে প্রাইস বলেছেন, ‘রুশ আগ্রাসন কমার কোনো অর্থবহ চিহ্ন নেই, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের কোনো অর্থবহ লক্ষণ নেই।’

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে পারে রাশিয়া। যুদ্ধের শঙ্কায় ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটিতে আজকের দিনটিকে আগে থেকেই জাতীয় ঐক্যের দিবস বা ইউনিটি ডে হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি নাগরিকদের ইউক্রেনের পতাকা ওড়ানো ও দেশটির জাতীয় রঙ- নীল ও হলুদ ব্যাজ পরার আহ্বান জানান। 

সীমান্ত থেকে রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে রাশিয়ার বক্তব্যের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে সীমান্ত এলাকায় রাশিয়া তাদের সেনা সংখ্যা আরও বাড়িয়েছে। 

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বাইডেন বলেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার এখনো জোর আশঙ্কা রয়েছে। যদি সেরকম কিছু হয় তাহলে তার মানবিক মূল্য হবে অনেক বেশি। আমাদের বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, তাদের অবস্থান এখনো হুমকি হিসেবেই রয়ে গেছে।’ তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা।

ইত্তেফাক/এসআর