হাটের দরপত্র জমা দেওয়া নিয়ে বিরোধ

সোনারগাঁওয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে আহত ১৫

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৩০

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হাটের দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া, পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। 

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে এবং উপজেলার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১৩টি স্থায়ী হাটের দরপত্র জমা দেওয়ার দিন ছিল গতকাল বুধবার। পরে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ঐতিহ্যবাহী কাইকারটেক হাটটি ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর সমর্থক রোমান বাদশা হাট পরিচালনা করে আসছিলেন। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সোহাগ রনির সমর্থক সজল মিয়া তার লোকজন ঐ হাটের দরপত্র জমা দিতে গেলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নান্নুপন্থী মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধার সম্পাদক সজিব, যুবলীগ কর্মী সাগর, হৃদয়, অনিক, পলাশ, পায়েলসহ ২০-২৫ জনের যুবলীগের একদল নেতাকর্মী এসে বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সোহাগ রনির সমর্থক শেখ মেহেদী হাসান, সজল মিয়া, জাবেদ মিয়া, পারভেজ মিয়াসহ ১২ জন আহত হন। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর পক্ষের ফারুক প্রধান, রবিউল প্রধানসহ তিন জন আহত হন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে সোহাগ রনির সমর্থক শেখ মেহেদী হাসান, জাবেদ, সজলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে উপজেলা পরিষদ থেকে বের করে দেয়। সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম মিয়া বলেন, ‘যুবলীগের সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে হাটটি পরিচালনা করে আসছিল। আমরা এ বছর টেন্ডার জমা দিতে গেলে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে।’

মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিব মিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আমাদের কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তারা যুবলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে তিন জনকে কুপিয়ে জখম করে।’

সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম