মেলা জমতে সময় নেয়। ধীরে ধীরে সব স্টলে নতুন বই আসে, পাঠকেরাও লিস্ট ধরে বই কেনা শুরু করে। কিন্তু এখনো গুছিয়ে উঠতে না পারা মেলায় মানুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতি মেলাকে শুরু থেকেই জমিয়ে তুলেছে। আর এই মেলা জমিয়ে তোলার প্রাণ হচ্ছে তরুণেরা। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে গতকালের বইমেলা প্রাঙ্গণ।
লাল-হলুদ শাড়ি পরে মেয়েরা আসছে দল বেঁধে। সেলফি তুলে, বন্ধুদের সঙ্গে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাশের জলাধারের বেঞ্চে বসে আড্ডা মেরে মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে তারা। মেলার দ্বার খুলে যায় বেলা ২টায়। তাদের কথা ও হাসির কলকাকলি মেলার স্তব্ধতা ভেঙে দেয়। গতকালও দেখা গেছে দল বেঁধে তরুণ-তরুণীদের ভিড়।সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেকটা অংশ মেলা চত্বরে নিয়ে নেওয়ায় মেলা হয়ে উঠেছে আরো ছিমছাম সুন্দর। মানুষের আনাগোনা, দোকানে দোকানে কেনাবেচা কিন্তু থেমে নেই। মেলায় এসেছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। বেশ কিছু বইও কেনেন তিনি। ইত্তেফাককে বলেন, মেলা এখনো গুছিয়ে ওঠেনি, কিন্তু মানুষের আনাগোনা মেলাকে জমিয়ে দিয়েছে। এটা খুব ভালো লাগছে।
মেলার স্টল নির্মাণ শেষ হয়নি এখনো
এদিকে, মেলা প্রাঙ্গণে এখনো স্টল নির্মাণ শেষ করেননি অনেক প্রকাশক। এমনকি প্রকাশক সমিতির নেতাদের স্টলগুলো এখনো নির্মাণ শেষ হয়নি। বইমেলার মাঝে স্টল নির্মাণ শ্রমিকদের আনাগোনা মেলার পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ জানালেন মেলায় আসা পাঠকেরা। এ প্রসঙ্গে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ বলেন, হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের স্টল ও প্যাভিলিয়ন গোছাতে পারেনি। কারণ, এবার তারা স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণের জন্য সময় পেয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ।
বইমেলায় তথ্যমন্ত্রী
গতকাল বিকেলে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের স্টল উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে নজরুল মঞ্চে কবি আসলাম সানীর কাব্যগ্রন্থ ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’, ড. মজিদ মাহমুদের ‘সাহিত্যে বঙ্গবন্ধু :মহাজীবনের মহাকাব্য’, ফারুক হোসেনের ‘ছড়ায় বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী।
‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ মূল মঞ্চে আলোচনা
বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী :উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুভাষ সিংহ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ও লেখক-গবেষক ফারুক মঈনউদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান।
নতুন বই: অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনে নতুন বই এসেছে ১৮টি। এর মধ্যে আগামী থেকে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘ইডিপাসের গল্প এবং বাংলাদেশ’, কথাপ্রকাশ থেকে নির্মলেন্দু গুণের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি :বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের কবিতা’, আগামী থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের ‘মুক্তিযুদ্ধের কথকতা ভুলে থাকা অপরাধ’, মোহাম্মদ আবু সালেহর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ও রবীন্দ্র-বিতর্ক’, কিংবদন্তি প্রকাশনী থেকে প্রবর রিপনের ‘গোধূলি ক্যাবারে’ প্রভৃতি।
