‘এখনো মনে হচ্ছে আমি সেই যোগ্যতা অর্জন করিনি’

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৫৪

ক্যারিয়ারে খুব কম সময়ে নিজের অবস্হান তৈরি করেছেন চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। এরইমধ্যে তার বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। যার স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করলেন তিনি। এমন সম্মান পাওয়ার অনুভূতি, নিজের অভিনয় পরিকল্পনাসহ ইন্ডাস্ট্রি প্রসঙ্গে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। 

সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ায় অভিনন্দন। এমন একটি সম্মান পাওয়ার অনুভূতি কীভাবে ব্যক্ত করবেন?

আমার এখনো মনে হচ্ছে না পুরস্কারটি আমি পাচ্ছি। সত্যি বলতে, মনে হচ্ছে আমি সেই যোগ্যতা অর্জন করিনি! জুরি বোর্ড এবং দর্শকরা আমাকে যে বিশ্বাস রেখেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন সেটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের। তারা অজান্তেই আমাকে আরো ভালো কাজের অনুপ্রেরণা জোগালেন। যখন পরিবারের সবার চোখ-মুখে তাকাচ্ছি তখন আসলে পুরস্কারের আনন্দটা অনুভব করতে পারছি।

পুরস্কারটি পাওয়ার খবর শুনে কার কথা মনে পড়েছে এবং কে বেশি খুশি হয়েছেন?

নিঃসন্দেহে আমার বাবা-মা এবং অবন্তী বেশি খুশি হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছে সুমন দার কথা। যিনি গতবছর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনিও এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শুটিংয়ের পরে সুখ-দুঃখ, ক্ষোভ, পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে অনেক কথা হতো আমাদের। কারণ এত পরিশ্রমের পরও পরিবারের কিছু বলার ছিল না। তবে এবার হয়তো তার পরিবারের মানুষরা বুঝতে পারবেন তাদের ছেলে কী করার চেষ্টা করতেন।

অভিনয় করার সময় কী ভেবেছিলেন ‘বিশ্বসুন্দরী’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেবে?

না, কখনোই এটা মাথায় আনিনি। তবে কঠিন দৃশ্যগুলো ধারণের সময় চম্পা ম্যাডাম এবং চয়নিকা দিদি অনেক সাহস জুগিয়েছেন। সে সময় চম্পা ম্যাডাম সর্বোচ্চ সম্মান অর্জনের জন্য দোয়াও করেছিলেন। আমার এই পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার তারা।

ক্যারিয়ারে খুব অল্প সময়েই সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন। এটা কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করলো কি-না?

না, আমি সেটা মনে করি না। আমি যে কাজটিতে বিশ্বাস করি বা যে ধরনের কাজ আমি করতে চাই সেগুলো পেলে অবশ্যই করব। তবে এটুকু বলতে পারি, আরো বেশি পরিশ্রম করতে চাই। কারণ পরিশ্রমটাই তো আমাদের হাতে থাকে! 

এর বাইরে অন্য কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

কিছুদিন আগেই একটি সিনেমার কাজ শেষ করলাম। আপাতত একটু বিরতিতে দিয়ে পরিবারকে সময় দিচ্ছি।

এরইমধ্যে ওয়েব ফিল্মে কাজ শুরু করেছেন। নতুন এই মাধ্যমটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশার জায়গা কোথায়?

ওটিটি আসায় অনেক ভালো ভালো গল্প আসছে। গল্প বলার ধরনও পাল্টে গেছে। দর্শকরা সেগুলো গ্রহণও করছেন। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য আনন্দের। এতে সবারই কাজের পরিধি বাড়ছে। আমি পরিকল্পনা করে কখনো কাজ করি না। তবে কোনো কাজের গল্প, চরিত্র, ডিরেকশন যদি আমাকে টানে, ভাবায় বা চ্যালেঞ্জ থাকে তাহলে অবশ্যই কাজ করব।

এই গল্প বলার ধরন বদলের সঙ্গে হিরো-হিরোইন নির্ভরতাও কমছে। এই চর্চাকে চলচ্চিত্রের ধারাবদল বলা যায় কি-না?

দেখুন, এখন সারাবিশ্বেই এ ধরনের কাজ হচ্ছে এবং সবাই ঘরে বসেই সেগুলো দেখতে পাচ্ছেন। তাই আমাদের তো স্রোতের বিপরীতে হাঁটলে চলবে না। আমাদের এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতে হবে।

হলে সিনেমা ফিরলেও দর্শক ফেরেনি। এই সমস্যা সমাধানে করণীয় কী বলে মনে করছেন?

হলে দর্শক ফেরাতে অনেককিছুই আমাদের প্রয়োজন। নতুন গল্পের সঙ্গে ভালো নির্মাণ, সাবলীল অভিনয় এক্ষেত্রে খুবই জরুরি। পাশাপাশি সেই সিনেমাটি দেখার মতো পরিবেশও তৈরি করে দিতে হবে।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি